ভারতে শিক্ষার্থী আন্দোলন: চাওয়া হচ্ছে লাইভ লোকেশন, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি

ভারতে শিক্ষার্থী আন্দোলন: চাওয়া হচ্ছে লাইভ লোকেশন, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি

ভারতে শিক্ষার্থী আন্দোলন: চাওয়া হচ্ছে লাইভ লোকেশন, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে চলমান গণ-আন্দোলন একাধিক শহরে ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে তা দমাতে বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছে মুম্বাই পুলিশ। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর ই-নজরদারি বা ডিজিটাল ট্র্যাকিং চালানো, তাদের হোয়াটসঅ্যাপের লাইভ লোকেশন শেয়ার করার নির্দেশ দেওয়া এবং বাড়িতে গিয়ে চাপ সৃষ্টির মতো অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

তবে পুলিশের এই ধরনের নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণমূলক কৌশলের পরেও গত বুধবার দাদারের শিবাজী পার্ক, চেম্বুর, জুহু ও পোওয়াইয়ের মতো স্থানগুলোতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানান।

পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হচ্ছে, আন্দোলনের গতিরোধ করতে তারা ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএস) এবং তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) আইন লঙ্ঘন করে আন্দোলনকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মৌলিক অধিকারের ওপর নজরদারি চালাচ্ছে। পূর্বে আটক হওয়া বা আইনি নোটিশ পাওয়া শিক্ষার্থীদের বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া, রেল ও মেট্রো স্টেশন থেকে শিক্ষার্থীদের আটক করা এমনকি যারা আন্দোলনে অংশ নেননি তাদেরও তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় বিদেশে থাকা ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ওপরও অনলাইন নজরদারি চালানোর কথা স্বীকার করেছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। তবে পুলিশ পুরো বিষয়টিকে প্রতিরোধমূলক বা ‌‌‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ হিসেবে দাবি করছে।

পুলিশের এই কঠোর পদক্ষেপ ও বুধবার চার শতাধিক মানুষকে আটক করার পরেও রাজপথ ছাড়েননি আন্দোলনকারীরা। বিকেলে শিবাজী পার্কে দুই হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ জড়ো হয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে অনেক স্থানীয় প্রবীণ নাগরিক ও অধিবাসীরাও মিছিলে যোগ দেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পুলিশি হয়রানির খবর আসা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও রাজপথের উপস্থিতির হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এদিকে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ওপরও পুলিশের নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে। দক্ষিণ মুম্বাইয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে তুষার গান্ধী ও রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি হর্ষবর্ধন সপকালকে আটক করা হয়। পরে মুক্তি পাওয়ার পর তুষার গান্ধী একে ‘পুলিশি রাজ’ বলে আখ্যা দেন। সার্বিকভাবে পুলিশি নজরদারি ও ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে আন্দোলন দমানোর এই প্রচেষ্টা নতুন করে মানবাধিকার ও আইনি কাঠামোর বড়সড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *