আলীকদমে পাহাড়ি ঢলে কৃষিতে কোটি টাকার ক্ষতি, দিশেহারা শত শত কৃষক

আলীকদমে পাহাড়ি ঢলে কৃষিতে কোটি টাকার ক্ষতি, দিশেহারা শত শত কৃষক

আলীকদমে পাহাড়ি ঢলে কৃষিতে কোটি টাকার ক্ষতি, দিশেহারা শত শত কৃষক
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও মাতামুহুরী নদী থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় কৃষিখাতে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। ঢলের পানিতে উপজেলার চারটি ইউনিয়নের অন্তত ৪৫৮ হেক্টর কৃষিজমির ফসল পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হঠাৎ এই বন্যায় ধারদেনা ও ঋণ করে চাষাবাদ করা শত শত কৃষক এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে আলীকদম সদর, চৈক্ষ্যং, নয়াপাড়া ও কুরুকপাতা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিচু এলাকার অধিকাংশ কৃষিজমি এখনও পানির নিচে তলিয়ে আছে। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় আউশ ও আমনের বীজতলা, পেঁপের বাগান এবং বেগুন, করলা, চিচিঙ্গা, ঢেঁড়স, শসা ও মরিচসহ বিভিন্ন গ্রীষ্মকালীন সবজি পচে নষ্ট হয়ে গেছে। সার, বীজ, কীটনাশক ও হাড়ভাঙা শ্রমের মাধ্যমে করা কৃষকের সব বিনিয়োগ এখন পানির নিচে। স্থানীয়দের মতে, প্রাথমিক হিসেবেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

আলীকদমে পাহাড়ি ঢলে কৃষিতে কোটি টাকার ক্ষতি, দিশেহারা শত শত কৃষক

ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় কৃষক কাউসার উদ্দিন বাপ্পি, মো. বেলাল ও মো. আবছার আক্ষেপ করে জানান, তারা ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে পেঁপে ও সবজি চাষ করেছিলেন। কিন্তু ঢলের পানিতে সব ফসল ভেসে যাওয়ায় এখন ঋণের কিস্তি শোধ করা দূরে থাক, পরিবারের ভরণপোষণ নিয়েই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। এই সংকট মোকাবিলায় তারা সরকারের কাছে জরুরি কৃষি প্রণোদনা ও সহজ শর্তে ঋণের দাবি জানান।

চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের পাট্টাখাইয়া পাড়া কৃষক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. মিজবাহ উদ্দিন বলেন, “আমাদের সমিতির শতাধিক সদস্যের সবাই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি। তাদের অধিকাংশের ফসলই এবার বন্যায় নষ্ট হয়েছে। সরকারি সাহায্য ছাড়া তাদের পক্ষে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানো বা আবার চাষাবাদ শুরু করা অসম্ভব।”

আলীকদমে পাহাড়ি ঢলে কৃষিতে কোটি টাকার ক্ষতি, দিশেহারা শত শত কৃষক

কৃষি ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করে আলীকদম উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সোহেল রানা জানান, ঢলে গ্রীষ্মকালীন সবজি, পেঁপে বাগান, বীজতলা এবং আমন-আউশ ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণে তথ্য সংগ্রহ করছি এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে দ্রুতই ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সবজির বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় কৃষি প্রণোদনা দেওয়া হবে।” সরকারি বরাদ্দ পেলে দ্রুততম সময়ে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed