চাকমা যুবক কর্তৃক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের পর ধামাচাপার চেষ্টা, বিচার চাইলে গুমের হুমকি!
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বাঘাইছড়িতে নানীর বাড়িতে থাকা খেদারমারা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া স্বজাতির এক স্কুলছাত্রীকে (১৩) ধর্ষণের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে রাসেল চাকমা (৩০) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর ভিকটিমের পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, গুম ও আর্থিক জরিমানার হুমকি দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের একটি চক্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার (১৯ জুলাই) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩১ নং খেদারমারা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাবলাখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভিকটিম শিশুটি স্থানীয় খেদারমারা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। সে দক্ষিণ পাবলাখালী এলাকায় নানীর বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করত।
সূত্র বলছে, ঘটনার দিন বিকেলে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল এবং ভিকটিমের নানীর শ্রবণশক্তি কম থাকায় ঘরের অন্য কক্ষে হওয়া এই পাশবিক নির্যাতনের বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে টের পাননি। পরবর্তী সময়ে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়।
অভিযুক্ত রাসেল চাকমা (৩০) দক্ষিণ পাবলাখালী এলাকার শান্তি প্রিয় চাকমার ছেলে। স্থানীয় সূত্র জানায়, আসামি রাসেল এলাকায় মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত এবং তার বিরুদ্ধে পূর্বেও এক নারীকে যৌন নির্যাতনের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। সে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন জেএসএসের প্রভাব খাঁটিয়ে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছিল বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর তা পুলিশ, জনপ্রতিনিধি বা স্থানীয় প্রশাসনকে না জানানোর জন্য ভিকটিমের পরিবারকে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, দক্ষিণ পাবলাখালী সমাজের কিছু সদস্য বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধান করার কথা বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। ভিকটিমের পরিবারকে হুমকি দেওয়ার পেছনে রিয়েল চাকমা, সুপন চাকমা, কালাধন চাকমা ও শুদ্ধধন চাকমা সহ আরও কয়েকজন জড়িত বলে জানা গেছে।
অভিযোগে আরও জানা যায়, প্রশাসন বা কোনো ইউপি মেম্বার-চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানালে ভিকটিমের পরিবারকে মোটা অঙ্কের আর্থিক জরিমানা এবং পরবর্তীতে জেএসএস এর নাম ভাঙিয়ে গুম করার হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণভয়ে ও সুষ্ঠু বিচারের অনিশ্চয়তায় পড়ে গত ২৩ জুলাই ভিকটিমের বাবা মিঠুন চাকমা অসুস্থ মেয়েকে উদ্ধার করে লংগদু উপজেলার গুলশাখালীস্থ নিজ বাড়িতে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা মুঠোফোনে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এলাকায় বিষয়টি জানাজানি হলে বিশেষ একটি মহল বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে যাচ্ছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার, আত্মীয়-স্বজনকে হুমকি দিচ্ছে। এতে করে ওই পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।
৩১ নং খেদারমারা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যকে মুঠোফোনে কল করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিল্টু চাকমা জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এরপর তিনি সাবেক চেয়ারম্যান ও ওই এলাকার কার্বারী বিশ্বপ্রিয় চাকমাকে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করে তথ্য দিতে বলেছেন।
চেয়ারম্যান বিল্টু চাকমা আরও জানিয়েছেন, বিষয়টি যেদি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে অপরাধীকে ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই।
এবিষয়ে জানতে বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির উদ্দিন মজুমদারে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
উল্লেখ্য, বর্তমানে নির্যাতিত পরিবারটি চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনার কোনো আইনি সমাধান বা সুষ্ঠু বিচার পায়নি ভিকটিমের পরিবার। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।