বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে উদ্বেগজনক হারে ছড়াচ্ছে হাম, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি অর্ধশতাধিক
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে হাম। বিশেষ করে রুমা উপজেলার গ্যালেংগা ও পাইন্দু ইউনিয়নের ম্রো ও খুমী অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায় শিশু থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষ জ্বর, সর্দি, কাশি ও শরীরে লালচে র্যাশসহ হামের উপসর্গে আক্রান্ত হচ্ছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বান্দরবান সদর হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে অর্ধশতাধিক রোগী ভর্তি হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগে চাপ বেড়েছে।
হঠাৎ রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বান্দরবান সদর হাসপাতালে তীব্র শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় শয্যা কম থাকায় অনেক রোগীকে হাসপাতালের ফ্লোর ও করিডোরে রেখে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বুধবার (২৯ জুলাই) বান্দরবান সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই, জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস এবং বান্দরবান সেনা জোনের একটি প্রতিনিধি দল। তারা হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের খোঁজখবর নেন, চিকিৎসাসেবার সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন।
বান্দরবান স্বাস্থ্য বিভাগের আহ্বায়ক ও পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ডা. সানাইপ্রু ত্রিপুরা জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী ও জনবল নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসাসেবা এবং হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। তিনি সবাইকে আতঙ্কিত না হয়ে আক্রান্ত শিশু ও রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে আনার আহ্বান জানান।

সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ, জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আক্রান্তদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত বান্দরবান জেলায় মোট ১ হাজার ৪১০ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে ২০ জন সন্দেহভাজন রোগী পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং ৩৮ জন হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও কয়েকটি বেসরকারি সূত্রের দাবি, চলতি বছরের মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত আলীকদম ও রুমা উপজেলায় হামের উপসর্গে অন্তত ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু জুলাই মাসেই রুমা উপজেলায় ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হচ্ছে। যদিও এ তথ্য সরকারি হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি। সরকারি ও স্থানীয় তথ্যের এই পার্থক্যের কারণে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হামের প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এদিকে দুর্গম এলাকায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে বান্দরবান সেনা জোনের পক্ষ থেকে বিশেষ মেডিকেল টিম মোতায়েন করে চিকিৎসাসেবা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে আনার জন্য বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে টিকাদানের আওতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, সচেতনতামূলক প্রচার এবং সময়মতো চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের শিশুদের হাম-রুবেলা টিকা নিশ্চিত করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।