নানা ধর্মীয় আয়োজনে রাঙামাটিতে পালিত হলো আষাঢ়ী পূর্ণিমা, শুরু হলো তিন মাসব্যাপী বর্ষাবাস

নানা ধর্মীয় আয়োজনে রাঙামাটিতে পালিত হলো আষাঢ়ী পূর্ণিমা, শুরু হলো তিন মাসব্যাপী বর্ষাবাস

নানা ধর্মীয় আয়োজনে রাঙামাটিতে পালিত হলো আষাঢ়ী পূর্ণিমা, শুরু হলো তিন মাসব্যাপী বর্ষাবাস
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, প্রার্থনা ও নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাঙামাটির বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে পালিত হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় উৎসব আষাঢ়ী পূর্ণিমা। এ উপলক্ষে বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন বিহারে ভক্তদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে ধর্মীয় প্রাঙ্গণ।

রাঙামাটির ঐতিহ্যবাহী রাজবন বিহারে সকাল থেকে শত শত পূর্ণার্থী সমবেত হয়ে দিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচিতে অংশ নেন। কর্মসূচির মধ্যে ছিল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, বুদ্ধ পূজা, পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ, সংঘদান, বুদ্ধমূর্তি দান এবং সমবেত প্রার্থনা।

নানা ধর্মীয় আয়োজনে রাঙামাটিতে পালিত হলো আষাঢ়ী পূর্ণিমা, শুরু হলো তিন মাসব্যাপী বর্ষাবাস

পরে রাজবন বিহারের আবাসিক অধ্যক্ষ প্রজ্ঞালংকার মহাথের ধর্মীয় দেশনা প্রদান করেন। তিনি বুদ্ধের অহিংসা, মৈত্রী, করুণা ও সংযমের শিক্ষা অনুসরণের আহ্বান জানান এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং বিশ্বের সকল প্রাণীর সুখ, শান্তি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। ভক্তরা নিজেদের আত্মশুদ্ধি, মানবকল্যাণ এবং শান্তিময় সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, আষাঢ়ী পূর্ণিমার দিনেই রাজকুমার সিদ্ধার্থ মাতৃগর্ভে প্রতিসন্ধি গ্রহণ করেন, রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করে গৃহত্যাগী জীবন শুরু করেন এবং বুদ্ধত্ব লাভের পর সারনাথের মৃগদাবে প্রথম ধর্মদেশনা প্রদান করে ধর্মচক্র প্রবর্তন করেন। এসব ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ঘটনার কারণেই দিনটি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ।

নানা ধর্মীয় আয়োজনে রাঙামাটিতে পালিত হলো আষাঢ়ী পূর্ণিমা, শুরু হলো তিন মাসব্যাপী বর্ষাবাস

এদিন থেকেই বৌদ্ধ ভিক্ষুরা শুরু করেন তিন মাসব্যাপী বর্ষাবাস ব্রত। বর্ষাবাস চলাকালে তারা নিজ নিজ বিহারে অবস্থান করে ধ্যান, প্রার্থনা, ধর্মচর্চা ও শাস্ত্র অধ্যয়নে আত্মনিয়োগ করেন। ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী এ সময়ে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া তারা বিহার ত্যাগ করেন না।

তিন মাসের বর্ষাবাস শেষে প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বিহারগুলোতে আয়োজন করা হবে বৌদ্ধ ধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান কঠিন চীবর দান, যা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় আচার হিসেবে বিবেচিত।

ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে রাঙামাটির বিভিন্ন বিহারে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভক্তিময় পরিবেশ বিরাজ করে। দিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠান, প্রার্থনা ও দানের মাধ্যমে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা মানবকল্যাণ, সম্প্রীতি এবং বিশ্বশান্তির বার্তা তুলে ধরেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *