মহালছড়িতে সেনাবাহিনীর মানবিক ছোঁয়া, উদ্বোধন হলো নূরে মদিনা হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
পার্বত্যাঞ্চলে শিক্ষা, মানবিক সহায়তা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে ধারাবাহিক অবদান রেখে চলা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবার খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে উদ্বোধন করেছে নূরে মদিনা হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা। উদ্বোধনের পাশাপাশি স্থানীয় অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ এবং মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে সেনাবাহিনী আবারও মানবিক দায়িত্ববোধের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে মহালছড়ি জোনের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মাদ্রাসা ও এতিমখানার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মহালছড়ি জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আল জাবির আসিফ।

উদ্বোধনকে ঘিরে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, এতিম শিশু, অভিভাবক এবং আশপাশের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য একটি বিনামূল্যের মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।
সেনাবাহিনীর উদ্যোগে পরিচালিত এই ক্যাম্পে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা শতাধিক রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করেন এবং বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করেন। দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য এমন স্বাস্থ্যসেবা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক স্বস্তি ও আনন্দের সৃষ্টি করে।
শুধু চিকিৎসাসেবাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ। অনুষ্ঠানে মহালছড়ি জোনের পক্ষ থেকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করে তাদের পাশে দাঁড়ায় জোন কর্তৃপক্ষ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আল জাবির আসিফ বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় জনগণের পাশে রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা এবং সামাজিক উন্নয়নে সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে মহালছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন, মহালছড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার, এতিম ও অসহায় শিশুদের কল্যাণ এবং মানবিক সহায়তামূলক কর্মকাণ্ডের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতায় শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে। তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করেন।
স্থানীয়দের মতে, এই উদ্বোধনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো—দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
জানা যায়, নূরে মদিনা হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার নির্মাণকাজ দীর্ঘ বছর ধরে স্থবির হয়ে ছিল। ফলে এলাকার এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠানটি চালু করা সম্ভব হচ্ছিল না।

বর্তমান মহালছড়ি জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আল জাবির আসিফ দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। তাঁর সার্বিক দিকনির্দেশনা, নিবিড় তদারকি এবং আন্তরিক প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিনের স্থবির নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হয়। পরবর্তীতে সফলভাবে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে মাদ্রাসা ও এতিমখানাটির উদ্বোধন করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, উদ্বোধনের দিনই চিকিৎসাসেবা, ওষুধ, আর্থিক সহায়তা এবং ত্রাণ বিতরণের মাধ্যমে সেনাবাহিনী প্রমাণ করেছে যে তারা কেবল নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বই পালন করছে না, বরং দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নেও আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
মহালছড়িবাসীর প্রত্যাশা, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এমন মানবিক ও উন্নয়নমুখী কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং পার্বত্যাঞ্চলের শিক্ষা, সম্প্রীতি ও জনকল্যাণে নতুন নতুন ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।