কোমরসমান পানিতে স্থবির কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক, চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

কোমরসমান পানিতে স্থবির কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক, চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

কোমরসমান পানিতে স্থবির কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক, চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী এলাকায় আবারও ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে সড়কের একাধিক অংশ। ফলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

বুধবার (৫ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েক ঘণ্টার টানা বর্ষণের পর সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে ডুবে ছোটখাটো জলাশয়ের রূপ নিয়েছে। কোমরসমান পানি ঠেলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন সাধারণ মানুষ। ছোট যানবাহন বিশেষ করে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও ইজিবাইকের অনেকগুলো মাঝপথেই বিকল হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে চালক ও যাত্রীরা যানবাহন ঠেলে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব এবং প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথ দখল ও ভরাট হওয়ার কারণে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই থাইংখালী এলাকায় একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক ডুবে যায়, আর কয়েক ঘণ্টার ভারী বর্ষণেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।

এদিকে উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের রুমখাঁ কোলালপাড়া এলাকাতেও জলাবদ্ধতায় গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে শত শত শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করছেন, যার ফলে সময় ও অর্থ—দুই দিক থেকেই অতিরিক্ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় পথচারী রাসেল উদ্দিন বলেন, ‘প্রতিবছর বর্ষা এলেই থাইংখালী সড়কে একই চিত্র দেখা যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা, কখনো দিনের পর দিন পানি জমে থাকে। এতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ এবং পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ উন্মুক্ত না করলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।’

বাসিন্দাদের ভাষ্য, কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক শুধু স্থানীয় জনগণের জন্য নয়, সীমান্ত এলাকা, পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যোগাযোগপথ। কিন্তু প্রতি বর্ষায় একই ধরনের জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় হাজারো মানুষকে নিয়মিত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

তাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ, খাল ও প্রাকৃতিক পানি প্রবাহের পথ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে যেতে পারছে না। ফলে সামান্য সময়ের বৃষ্টিতেই সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, থাইংখালীসহ আশপাশের এলাকায় পরিকল্পিত ও আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, অবৈধভাবে দখল ও ভরাট হওয়া পানি নিষ্কাশনের পথ পুনরুদ্ধার এবং স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন।

তাদের মতে, প্রতিবছর একই ধরনের সমস্যার পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করে যে, সাময়িক ব্যবস্থা নয়, স্থায়ী সমাধানের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের এখনই উপযুক্ত সময়। অন্যথায় বর্ষা এলেই কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশে জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে থাকবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *