উজানের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তিন বিভাগে বন্যার শঙ্কা

উজানের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তিন বিভাগে বন্যার শঙ্কা

উজানের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তিন বিভাগে বন্যার শঙ্কা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

উজানের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে নীলফামারীর তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে গতকাল বুধবার সকালে পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বিকেলের পর থেকে দ্রুত কমতে শুরু করেছে। তবে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তার বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে তীব্র নদীভাঙন। একই সময়ে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার ও আগামীকাল শুক্রবারের মধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার রাত থেকে তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করে। গতকাল বুধবার সকালে তা বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পরে দুপুর থেকে পানি কমতে থাকে। সন্ধ্যা ৬টায় পানি বিপৎসীমার দুই সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, রাতে পানি আবার বাড়ার আশঙ্কা নেই।

তবে নদীরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন অংশে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। কয়েকটি স্থানে বাঁধ ধসে পড়ায় স্থানীয় মানুষের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। পাশাপাশি শাকসবজি, ভুট্টা ও বাদামের ক্ষেতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ডোমার ও জলঢাকা উপজেলার নদীতীরবর্তী আটটি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ঘরবাড়ির পাশাপাশি মসজিদ, কবরস্থান ও ফসলি জমিও নদীতে বিলীন হতে পারে।

এদিকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী এক দিন দেশের অভ্যন্তরে রংপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে কয়েকটি নদীর পানি আরও বাড়তে পারে।

সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী দুই দিন বাড়তে পারে। এই সময়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জের কিছু স্থানে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। উত্তরাঞ্চলে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানিও আগামী এক দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে। তিস্তা ও দুধকুমারের পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। ময়মনসিংহ অঞ্চলে সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস নদের পানিও বাড়তে পারে। আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার কিছু এলাকায় এসব নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা সৃষ্টি করতে পারে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রটি।

এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদনদীর পানি আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে। অন্যদিকে গঙ্গা-পদ্মার পানি প্রথম দুই দিন স্থিতিশীল থাকলেও পরে বাড়তে পারে। চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, সেলোনিয়া, ফেনী ও হালদা নদীর পানিও আগামী তিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরও জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিন দেশের আট বিভাগেই দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *