মাটিরাঙ্গায় গর্ভবতী নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ শেষ, সনদ বিতরণ

মাটিরাঙ্গায় গর্ভবতী নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ শেষ, সনদ বিতরণ

মাটিরাঙ্গায় গর্ভবতী নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ শেষ, সনদ বিতরণ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার দুর্গম ও পিছিয়ে পড়া এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে আয়োজিত দুই সপ্তাহব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শেষ হয়েছে। ‘গর্ভবতী নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা’ শীর্ষক এ প্রশিক্ষণে স্থানীয় ১৭ জন স্বাস্থ্যকর্মী অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে মাটিরাঙ্গা উপজেলা অডিটোরিয়ামে প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র ও বিশেষ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

সেনাবাহিনীর মাটিরাঙ্গা জোনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গর্ভবতী নারী, প্রসূতি মা ও শিশুদের জরুরি স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি করা। ভৌগোলিক দুর্গমতার কারণে যেসব এলাকায় দ্রুত চিকিৎসক বা হাসপাতালের সেবা পৌঁছানো কঠিন, সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতেই এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাটিরাঙ্গা জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ খান।

মাটিরাঙ্গা জোনের উপ-অধিনায়ক আলতাফ মাহমুদ রুবেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাহমিনা মিতু, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন দত্ত এবং প্রশিক্ষণার্থীদের পক্ষে নিলা ত্রিপুরা।

মাটিরাঙ্গায় গর্ভবতী নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ শেষ, সনদ বিতরণ

প্রধান অতিথির বক্তব্যে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ খান বলেন, পাহাড়ের পিছিয়ে পড়া মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় মাটিরাঙ্গার ১৭ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দুর্গম এলাকার মানুষ যেন প্রয়োজনের সময় দ্রুত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পান, সেটিই এই প্রশিক্ষণের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে সময়মতো ঝুঁকি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং গুরুতর রোগীকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ খান আরও বলেন, মানুষের কল্যাণে সেনাবাহিনীর এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের দুর্গমতা, যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র থেকে দূরত্বের কারণে অনেক সময় সাধারণ মানুষ জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পেতে বিলম্বের মুখে পড়েন। বিশেষ করে গর্ভাবস্থা ও শিশুর অসুস্থতার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে এ বিলম্ব ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী থাকলে এসব ক্ষেত্রে দ্রুত প্রাথমিক সহায়তা দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীকে হাসপাতালে পাঠানো সহজ হবে।

মাটিরাঙ্গায় গর্ভবতী নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ শেষ, সনদ বিতরণ

তারা বলেন, শুধু চিকিৎসা দেওয়াই নয়, গর্ভবতী নারীর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রসবপূর্ব সচেতনতা, নবজাতকের পরিচর্যা, পুষ্টি, মাতৃদুগ্ধ পান এবং জরুরি স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে পরিবারগুলোকে সচেতন করাও এই উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অনুষ্ঠানে মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহেদ উদ্দিন, মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. ফারিয়া, জেলা পরিষদ সদস্য শহীদুল ইসলাম সুমনসহ সামরিক কর্মকর্তা, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, প্রশিক্ষণ-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ২ আগস্ট মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ খান পিএসসি এই বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এ প্রশিক্ষণ তাদের দায়িত্ব পালনে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। বিশেষ করে মা ও শিশুর জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

স্থানীয়দের মতে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা বাড়ানোর এমন উদ্যোগ সময়োপযোগী। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরিতেও এ ধরনের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *