কুতুকছড়িতে দিনদুপুরে পাহাড় কাটার অভিযোগ, জিপে করে সরানো হচ্ছে মাটি

কুতুকছড়িতে দিনদুপুরে পাহাড় কাটার অভিযোগ, জিপে করে সরানো হচ্ছে মাটি

কুতুকছড়িতে দিনদুপুরে পাহাড় কাটার অভিযোগ, জিপে করে সরানো হচ্ছে মাটি
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

রাঙামাটি সদর উপজেলার কুতুকছড়ি আবাসিক এলাকায় পরিবেশ আইনকে উপেক্ষা করে প্রকাশ্যে পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক জিপচালকের বিরুদ্ধে বসতবাড়ি নির্মাণের কাজের অজুহাতে শ্রমিক দিয়ে পাহাড় কেটে মাটি সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কুতুকছড়ি আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ও জিপচালক পবিত্র চাকমা কয়েকদিন ধরে তার বসতবাড়ির কাজের জন্য পাহাড়ের মাটি কাটছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি প্রধান সড়কের পাশে কুতুকছড়ি আবাসিক এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে পাহাড় কাটার দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে ৫ থেকে ৭ জন শ্রমিককে কোদাল দিয়ে পাহাড়ের মাটি কাটতে এবং বস্তায় ভরতে দেখা যায়। পরে বস্তাভর্তি মাটি একটি সাদা রঙের জিপে করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।

সরেজমিনে প্রায় ২৫ বস্তা কাটা মাটি গাড়িতে তোলার প্রস্তুতি দেখা যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এভাবে প্রতিদিনই পাহাড়ের মাটি কেটে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বসতবাড়ি নির্মাণের প্রয়োজন থাকলেও নির্বিচারে পাহাড় কেটে মাটি সরিয়ে নেওয়া পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ের মাটি কেটে ফেললে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি আশপাশের বসতবাড়ি ও সড়কও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।

কুতুকছড়িতে দিনদুপুরে পাহাড় কাটার অভিযোগ, জিপে করে সরানো হচ্ছে মাটি

পরিবেশকর্মীদের মতে, পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড় শুধু মাটির স্তূপ নয়; এগুলো স্থানীয় পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরিকল্পনাহীনভাবে পাহাড় কাটা হলে মাটির স্বাভাবিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হয় এবং অতিবৃষ্টি হলে আকস্মিক মাটি ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের কেউ কেউ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের দ্রুত নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রশ্ন, বসতবাড়ি নির্মাণের নামে এভাবে পাহাড় কাটার অনুমতি রয়েছে কি না এবং থাকলেও তা পরিবেশসম্মতভাবে করা হচ্ছে কি না—তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাটা মাটি পবিত্র চাকমার ব্যবহৃত একটি সাদা রঙের জিপ গাড়িতে করে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর চট্টগ্রাম মেট্রো-ল-১১-৭৫-৫৮।

তবে পাহাড় কাটার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পবিত্র চাকমার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের সত্যতা, পাহাড় কাটার পরিমাণ এবং এ কাজে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, পাহাড় কাটার বিষয়টি দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে কুতুকছড়ি ও আশপাশের এলাকায় নির্বিচারে পাহাড় কাটা না হয়, সে জন্য নিয়মিত নজরদারি জোরদারেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।