পাহাড়ে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবায় সেনাবাহিনীর প্রশংসনীয় উদ্যোগ, প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্র পেলেন স্বাস্থ্যসেবাকর্মীরা
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গর্ভবতী নারী, প্রসূতি মা ও নবজাতকের জরুরি ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষিত জনবল তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ভৌগোলিক দুর্গমতার কারণে যেখানে অনেক সময় দ্রুত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, সেখানে স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী তৈরি করে মা ও শিশুর জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এ উদ্যোগ।
“সমরে ও শান্তিতে রাখিব সুস্থ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বান্দরবানের দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় মা ও শিশুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে সেনাবাহিনীর ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড ও বান্দরবান রিজিয়নের ব্যবস্থাপনায় এবং ৭ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্সের পরিচালনায় ৭ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্সের সভাকক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড ও বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম।
এ সময় বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী, ৭ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্সের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরফরাজ, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক, সামরিক সদস্য ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে গর্ভাবস্থায় সম্ভাব্য ঝুঁকি ও বিপদচিহ্ন শনাক্তকরণ, প্রসবকালীন প্রাথমিক সহায়তা, প্রসব-পরবর্তী পরিচর্যা, নবজাতকের যত্ন, বুকের দুধ খাওয়ানোর সঠিক পদ্ধতি, টিকাদান, সিপিআর, ক্যানুলা প্রয়োগ, স্বাস্থ্য কাউন্সেলিং ও পরিবার পরিকল্পনাসহ মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে-কলমে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার কৌশলও শেখানো হয়। কোনো রোগী বা প্রসূতির অবস্থা জটিল হলে দ্রুত পরিস্থিতি বুঝে তাকে উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে রেফার করার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বান্দরবানের পাহাড়ি জনপদের অনেক এলাকা দুর্গম হওয়ায় সেখান থেকে উপজেলা বা জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে রোগী পৌঁছাতে সময় লাগে। বিশেষ করে প্রসবকালীন জটিলতা কিংবা নবজাতকের জরুরি পরিস্থিতিতে এই সময়টুকু অনেক ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন বাস্তবতায় স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যসেবাকর্মী থাকলে প্রাথমিক পর্যায়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ রোগীকে সময়মতো উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো সহজ হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পাহাড়ি এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে শুধু হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; দুর্গম এলাকায় কাজ করার মতো দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবলও প্রয়োজন। সেনাবাহিনীর এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রত্যন্ত অঞ্চলে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তারা আরও বলেন, একজন গর্ভবতী নারীর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা দ্রুত শনাক্ত করা, প্রসবের সময় প্রাথমিক সহায়তা দেওয়া কিংবা নবজাতকের জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া অনেক সময় জীবন-মৃত্যুর ব্যবধান তৈরি করতে পারে। তাই স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবায় যুক্ত ব্যক্তিদের এ ধরনের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া অত্যন্ত সময়োপযোগী।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করা প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এসব জনবল ভবিষ্যতে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
স্থানীয়দের মতে, সীমান্ত ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দুর্গম পাহাড়ে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মানবিক সহায়তার মতো জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততা পার্বত্য এলাকার মানুষের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে মা ও শিশুর মতো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষতা বাড়ানোর এ উদ্যোগকে তারা প্রশংসনীয় ও মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং জরুরি সময়ে জীবন রক্ষাকারী প্রাথমিক সহায়তা আরও কার্যকর করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।