বান্দরবানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাতৃভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সেনাবাহিনীর উদ্যোগ, কোর্সের উদ্বোধন
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মকে নিজস্ব মাতৃভাষা চর্চায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বান্দরবান রিজিয়নে মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা ও ত্রিপুরা ভাষা শিক্ষা কোর্সের উদ্বোধন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ তিনটি ভাষা শিক্ষা কোর্সের উদ্বোধন করেন ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড ও বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, একটি জনগোষ্ঠীর পরিচয় ও ঐতিহ্যের অন্যতম প্রধান বাহন তার নিজস্ব ভাষা। তাই পার্বত্য অঞ্চলের ভাষাগত বৈচিত্র্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে ভাষা শিক্ষার এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার্থীদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চায় আরও উৎসাহিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সংযোগ যত শক্তিশালী হবে, ততই তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও ভাষাকে জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষার্থীদের মাঝে ভাষা শিক্ষার প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ উপকরণ বিতরণ করা হয়। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রশিক্ষক ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি ছিল ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
প্রথম পর্যায়ে মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা ও ত্রিপুরা—এই তিনটি ভাষায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতি বছর তিনটি কোর্সে মোট ৯০ জন শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন। প্রতিটি ভাষায় ৩০ জন করে শিক্ষার্থী অংশ নেবেন।
আয়োজকদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বহন করে আসছে। কিন্তু আধুনিক শিক্ষা, নগরায়ণ ও পরিবর্তিত সামাজিক বাস্তবতায় নতুন প্রজন্মের মধ্যে নিজস্ব মাতৃভাষার ব্যবহার ও চর্চা অনেক ক্ষেত্রে সীমিত হয়ে পড়ছে। এ বাস্তবতায় প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করা হলে শিশু-কিশোরদের নিজস্ব ভাষার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক শিকড়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।
অনুষ্ঠানে বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ কামরুল হাসান খান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক নুক্রাসিং মার্মা, শিক্ষক, প্রশিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথম ধাপে তিনটি ভাষা দিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও ভবিষ্যতে পর্যায়ক্রমে পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষাকেও এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে ভাষাগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চর্চার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।
পার্বত্য অঞ্চলে নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে এমন উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, নিজস্ব ভাষা শেখার সুযোগ সৃষ্টি শুধু ভাষা সংরক্ষণের উদ্যোগ নয়; এটি তরুণ প্রজন্মকে তাদের শেকড়, ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখারও কার্যকর মাধ্যম। ফলে বান্দরবান রিজিয়নের এ উদ্যোগ পার্বত্য চট্টগ্রামের বৈচিত্র্যময় ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।