থাই-মিয়ানমার সামরিক বৈঠকে সীমান্ত সংঘাত ও নিরাপত্তা ইস্যুতে গুরুত্ব

থাই-মিয়ানমার সামরিক বৈঠকে সীমান্ত সংঘাত ও নিরাপত্তা ইস্যুতে গুরুত্ব

থাই-মিয়ানমার সামরিক বৈঠকে সীমান্ত সংঘাত ও নিরাপত্তা ইস্যুতে গুরুত্ব
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

সীমান্তের স্থিতিশীলতা, সাইবার অপরাধ দমন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণকে গুরুত্ব দিয়ে থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ব্যাংককে দুই দেশের ৯ম থাইল্যান্ড-মিয়ানমার হাই লেভেল কমিটি (এইচএলসি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়ে উইন উ এবং থাইল্যান্ডের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল উক্রিস বুনতানন্দ নেতৃত্ব দেন। দুই দেশের সীমান্তে চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং সামরিক সহযোগিতা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

মিয়ানমারের সেনাপ্রধান হিসেবে ইয়ে উইন উ দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশটির বেসামরিক জনগণের ওপর সামরিক অভিযানের তীব্রতা বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তার নেতৃত্বাধীন সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে শত শত বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগের মধ্যেই তাকে বৈঠকে আতিথ্য দেওয়ায় থাইল্যান্ডের রাজনীতিক ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনার মুখে পড়েছে ব্যাংকক।

২০২১ সালে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলের ঘটনায় ভূমিকার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ইয়ে উইন উ’র ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

তবে কয়েক দশক ধরে থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। নিয়মিতভাবে মিয়ানমারের সামরিক কর্মকর্তারা থাইল্যান্ডে সামরিক প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা, গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং নজরদারিবিষয়ক প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন।

বুধবার ইয়ে উইন উ’র সঙ্গে বৈঠকে থাইল্যান্ডের সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল উক্রিস দুই দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও বিনিময় কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়ে ব্যাংককের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

মিয়ানমার ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি ইনস্টিটিউটের (এমডিএসআই) কো নাউং ইয়ো দ্য ইরাবতীকে বলেন, দুই দেশের যৌথ স্টাফ কোর্সের মাধ্যমে মিয়ানমারের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্ববিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তার মতে, এসব প্রশিক্ষণ দুই দেশের স্বাভাবিক সামরিক সহযোগিতার অংশ এবং মিয়ানমারের প্রতিরোধ আন্দোলনের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযানের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে হয় না।

তবে সীমান্তবর্তী এলাকায় মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অস্ত্র, সরঞ্জাম ও অন্যান্য রসদের সরবরাহ বন্ধ করতে দুই দেশের সামরিক বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকেরা। তাদের মতে, এ ধরনের সহযোগিতা সীমান্তবর্তী প্রতিরোধ ঘাঁটিগুলোর ওপর চাপ আরও বাড়াতে পারে।

কারেনি স্টেটের অন্তর্বর্তী নির্বাহী পরিষদের (আইইসি) বানিয়ার খুং অং দ্য ইরাবতীকে বলেন, মিয়ানমার ও থাই—দুই দেশের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেই আরও চাপের মুখে পড়তে হতে পারে। তবে বৈঠকের কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তার ভাষ্য, থাইল্যান্ড নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে, কিন্তু মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী কখনোই এ ধরনের বিষয়কে গুরুত্ব দেয়নি।

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ, মাদক পাচার দমন, মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রম এবং দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে কর্মকর্তা বিনিময় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। মিয়ানমারের সামরিক কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে রাশিয়া, চীন, ভারত ও পাকিস্তানে সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন। এসব প্রশিক্ষণের মধ্যে কমান্ড ও নেতৃত্ব, সামরিক প্রকৌশল, বিমান পরিচালনা এবং অস্ত্রব্যবস্থা সম্পর্কিত বিভিন্ন কোর্স রয়েছে।

থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় হাই লেভেল কমিটির পাশাপাশি যৌথ সীমান্ত কমিটিও (জয়েন্ট বাউন্ডারি কমিটি) কাজ করে। এ কমিটিতে দুই দেশের বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা রয়েছেন এবং সীমান্তসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তারা টাউনশিপ ও আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়মিত বৈঠক করে থাকেন।

সীমান্তে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত চলমান থাকা অবস্থায় এবারের থাই-মিয়ানমার সামরিক বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্ত নিরাপত্তা ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা কতটা বাড়ে, তা নিয়ে নজর রাখছেন মিয়ানমারের প্রতিরোধ গোষ্ঠী ও সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারীরা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed