রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন জরুরি- কক্সবাজারে গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন জরুরি- কক্সবাজারে গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন জরুরি- কক্সবাজারে গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

কক্সবাজার প্রতিনিধি 

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সংহতি ও সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন কক্সবাজারে আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনার বক্তারা। তারা বলেছেন, প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের মাধ্যমেই দীর্ঘদিনের এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

রোহিঙ্গা সংকটের নয় বছর পূর্তি সামনে রেখে ‘রোহিঙ্গাদের দেশত্যাগ’ শীর্ষক দুদিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় এবং নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল।

সোমবার (২৪ আগস্ট) প্রথম দিনের গোলটেবিল আলোচনা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি, কূটনীতিক, জাতিসংঘ, দাতা সংস্থা ও মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আলোচনায় পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম বলেন, সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের পথেই হাঁটছে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সূত্রপাত মিয়ানমারে, তাই এ সংকটের সমাধানের দায়িত্বও মিয়ানমারকেই নিতে হবে।

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন জরুরি- কক্সবাজারে গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ মানবিক কারণে প্রাণ বাঁচাতে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। এখন তাদের নিরাপদে নিজ দেশে ফেরানোর মাধ্যমেই এ সংকটের সমাধান সম্ভব। বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য কাজ করছে।

তবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো একটি ছোট দেশের পক্ষে দীর্ঘদিন বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার দায়িত্ব বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান পরিস্থিতি, প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মিয়ানমারে অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা শিশু ও তরুণদের চিত্রকর্ম, আলোকচিত্র ও প্রবন্ধ নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনীরও উদ্বোধন করা হয়। প্রদর্শনীতে রোহিঙ্গা শিশু-কিশোর ও তরুণেরা তাদের শরণার্থী জীবনের অভিজ্ঞতা, প্রতিকূলতার মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা, আকাঙ্ক্ষা এবং ভবিষ্যৎ ভাবনা নিজেদের সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।

আলোচনার বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গা সংকট কেবল বাংলাদেশের একার সমস্যা নয়। দীর্ঘমেয়াদি এ সংকটের সমাধানে মিয়ানমার, বাংলাদেশসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed