খাগড়াছড়িতে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের অভিযান, তিন প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড

খাগড়াছড়িতে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের অভিযান, তিন প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড

খাগড়াছড়িতে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের অভিযান, তিন প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

খাদ্যে ভেজাল, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও খাদ্য নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ি শহরে অভিযান চালিয়েছে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত। এ সময় পচা খাবার সংরক্ষণ, অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘর, খোলা স্থানে খাবার রাখা এবং মেয়াদবিহীন খাদ্যপণ্য রাখার অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে খাগড়াছড়ি বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন খাগড়াছড়ির সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক মুজিবুর রহমান।

অভিযানের সময় খাগড়াছড়ি শহরের বিভিন্ন খাবার হোটেল, রেস্টুরেন্ট, মিষ্টির দোকান ও খাদ্যপণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের রান্নাঘর, খাবার সংরক্ষণের স্থান এবং বিক্রির জন্য রাখা খাদ্যপণ্যের মান ও সংরক্ষণব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হয়।

অভিযানে শহরের নোয়াখালী হোটেলকে পচা খাবার সংরক্ষণ এবং অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘরের দায়ে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানা অনাদায়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ১৫ দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে সাতকানিয়া হোটেলকে খোলা স্থানে খাবার রাখাসহ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে ২০ দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

খাগড়াছড়ি বাজারের বনফুল মিষ্টির দোকানে অভিযান চালিয়ে মেয়াদবিহীন মিষ্টি ও শিশু খাদ্য রাখার বিষয়টি পাওয়া যায়। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া খাগড়াছড়ি পান বাজার পুকুর এলাকার ইনসাফ ক্যাফের বিরুদ্ধে নিরাপদ খাদ্য আইনে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

খাদ্য প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অভিযান চলাকালে জেলা শহরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলও পরিদর্শন করা হয়। এ সময় হোটেল কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে রেজিস্টার ও লগবই সংরক্ষণ করে কক্ষ ভাড়া দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পাশাপাশি আবাসিক হোটেলে কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ না দিতে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়।

অভিযান শেষে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক মুজিবুর রহমান জানান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণে অনিয়ম শুধু ভোক্তার আর্থিক ক্ষতিই করে না, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্যও গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই খাদ্য ব্যবসায়ীদের আইন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি ভোক্তাদেরও খাদ্যের মান ও মেয়াদ সম্পর্কে সচেতন থাকার প্রয়োজন রয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *