দুর্গমতার বাধা পেরিয়ে কৃষকদের দোরগোড়ায় কৃষি বিভাগ, কৃষি কার্ডের আওতায় আসছেন কৃষকরা
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
দুর্গম পাহাড়ি এলাকার প্রান্তিক কৃষকদের সরকারি সহায়তার আওতায় আনতে রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন দোসর গ্রামে গিয়ে প্রায় ৬০০ কৃষকের তথ্য হালনাগাদ করেছে কৃষি বিভাগ।
প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দুর্গম এলাকার কৃষকদের ‘কৃষি কার্ড’-এর আওতায় আনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
গত দুই দিন ধরে দোসর গ্রামে প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও নিরলসভাবে তথ্য হালনাগাদ কার্যক্রম পরিচালনা করেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সুবিধা না থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও সরেজমিনে গিয়ে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ ও হালনাগাদের কাজ সম্পন্ন করেন তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নূরে আলমের সার্বিক দিকনির্দেশনায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা এ কার্যক্রমে অংশ নেন। দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে কৃষকদের কাছে পৌঁছে তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন কর্মকর্তারা।
দুর্গমতার বাধা পেরিয়ে সরকারি সেবা
বাঘাইছড়ি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের দোসর গ্রামটি ভৌগোলিকভাবে দুর্গম। সেখানে এখনো বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছায়নি। যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত নয়। ফলে সরকারি বিভিন্ন সেবা পেতে স্থানীয় বাসিন্দাদের উপজেলা সদরে যেতে হয়, যা সময় ও ব্যয়সাপেক্ষ।
এমন বাস্তবতায় সরকারি সেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। দোসর গ্রামে গিয়ে কৃষকদের তথ্য হালনাগাদের মাধ্যমে তাদের সরকারি কৃষি সহায়তার আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আশাবাদ।

গত দুই দিনে প্রায় ৬০০ জন কৃষকের তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্গম এলাকার কৃষকদের সঠিক তথ্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় অন্তর্ভুক্ত হলে ভবিষ্যতে কৃষি সহায়তা, পরামর্শ ও বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির সুবিধা তাদের কাছে পৌঁছানো আরও সহজ হবে।
সরেজমিনে কার্যক্রম পরিদর্শন
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দোসর বাজার এলাকায় চলমান তথ্য হালনাগাদ কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন বাঘাইছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নূরে আলম। এ সময় বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির উদ্দিন মজুমদারসহ স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে দেখা যায়, দুর্গম ভৌগোলিক বাধা অতিক্রম করে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা স্থানীয় কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ ও হালনাগাদের কাজ করছেন। বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের মতো মৌলিক প্রযুক্তিগত সুবিধা না থাকলেও কর্মকর্তারা স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছেন।

এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। দুর্গম এলাকায় সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহ দেখা যায়।
কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার
স্থানীয় কৃষকরা জানান, দুর্গমতার কারণে উপজেলা সদরে গিয়ে সরকারি কৃষি সেবা নেওয়া তাদের জন্য অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত হওয়ায় বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ সীমিত থাকে।
এমন অবস্থায় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিজেরাই এলাকায় এসে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ করায় তারা সন্তুষ্ট। তাদের মতে, সরকারি কর্মকর্তারা দুর্গম এলাকায় পৌঁছে সেবা নিশ্চিত করায় কৃষকদের মধ্যে কৃষিকাজ নিয়ে নতুন উদ্দীপনা ও আশার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, কৃষি কার্ডের মাধ্যমে ভবিষ্যতে সরকারি বিভিন্ন কৃষি সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পথ আরও সহজ হবে। তাই দোসরের মতো দুর্গম এলাকায় এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা তাদের।
প্রান্তিক কৃষকদের অন্তর্ভুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ
সংশ্লিষ্টদের মতে, পাহাড়ি ও দুর্গম অঞ্চলের কৃষকদের উন্নয়নে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো ভৌগোলিক দুর্গমতা। যোগাযোগ ও প্রযুক্তিগত সুবিধার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় সরকারি সেবার তথ্য ও সুযোগ-সুবিধা প্রান্তিক কৃষকদের কাছে সময়মতো পৌঁছায় না।
দোসর গ্রামে কৃষকদের তথ্য হালনাগাদের এ উদ্যোগ সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার একটি কার্যকর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। সরকারি সেবা নিতে কৃষকদের উপজেলা সদরে যাওয়ার পরিবর্তে কর্মকর্তারা নিজেরাই দুর্গম এলাকায় গিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করায় সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কৃষি বিভাগের এমন উদ্যোগে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার কৃষকরাও সরকারি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তথ্য হালনাগাদের পর কৃষি কার্ডসহ সরকারি কৃষি সহায়তার অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও তাদের কাছে সহজে পৌঁছে দেওয়া হবে।
দুর্গম দোসর গ্রামে বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরেজমিনে গিয়ে প্রায় ৬০০ কৃষকের তথ্য হালনাগাদের উদ্যোগকে তাই স্থানীয়রা সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।