শিক্ষার প্রসারে উৎসাহ জোগাতে সাজেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৩৪ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

শিক্ষার প্রসারে উৎসাহ জোগাতে সাজেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৩৪ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

শিক্ষার প্রসারে উৎসাহ জোগাতে সাজেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৩৪ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

রাঙামাটির বাঘাইছড়ির দুর্গম সাজেক ইউনিয়নে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সাফল্যের স্বীকৃতি ও তাদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করতে ৩৬ নম্বর সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সাজেক ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাজেক ইউনিয়নের বাঘাইহাট উচ্চ বিদ্যালয়, মাচালং উচ্চ বিদ্যালয় ও করল্যাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৩৪ জন শিক্ষার্থীকে ক্রেস্ট প্রদান করে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

৩৬ নম্বর সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঘাইহাট জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর সালমান সিদ্দিক।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন তাদের কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রতিফলন। এই সাফল্য শুধু শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য নয়, পুরো সাজেকের জন্যই গর্বের বিষয়।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেওয়া। সাজেক ইউনিয়নের তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৩৪ শিক্ষার্থীকে তাদের সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

ক্রেস্ট গ্রহণের সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ দেখা যায়। তাদের সাফল্যে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও সন্তোষ প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বক্তারা তাদের ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা, সততা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ গড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সাজেকের মতো দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে নানা ধরনের বাস্তব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, শিক্ষা উপকরণ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ঘাটতির মধ্যেও যারা মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করে উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তাদের উৎসাহিত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রধান অতিথি বাঘাইহাট জোনের উপঅধিনায়ক মেজর সালমান সিদ্দিক, পিএসসি বলেন, সাজেকের মতো দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যকে উৎসাহিত করতে এ ধরনের সংবর্ধনা আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, শিক্ষার্থীদের সাফল্যের স্বীকৃতি তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহী করবে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের নিজেদের লক্ষ্য নির্ধারণ করে নিয়মিত পড়াশোনা, কঠোর পরিশ্রম ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে শিক্ষক ও অভিভাবকদেরও আরও আন্তরিক ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানে বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সঞ্চয়ণ চাকমা, বাঘাইহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাক্যবধী চাকমা, সাজেক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন, সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা অংশ নেন। কৃতী শিক্ষার্থীদের সাফল্য উদযাপনকে কেন্দ্র করে পুরো আয়োজনজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সাফল্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের সামনে উচ্চশিক্ষার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরার মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা ও আগ্রহ তৈরি হবে। একই সঙ্গে এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বেশি শিক্ষার্থীকে শিক্ষাজীবনে সাফল্য অর্জনে উৎসাহিত করবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *