নতুন রঙে নানিয়ারচরের চুনিলাল দেওয়ান সেতু, বদলে গেছে পুরো এলাকার চিত্র
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
নতুন রঙে নতুন সাজে সেজেছে রাঙামাটির নানিয়ারচরের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা চুনিলাল দেওয়ান সেতু। প্রায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুতে নতুন রঙের ছোঁয়া লাগার পাশাপাশি আশপাশের সড়ক ও কালভার্টেও লাল-সাদা জেব্রা ডিজাইন করা হয়েছে। এতে বদলে গেছে পুরো এলাকার দৃশ্যপট। যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোটি এখন একই সঙ্গে হয়ে উঠছে নানিয়ারচরের অন্যতম নান্দনিক দর্শনীয় স্থান।
সম্প্রতি সেতু ও আশপাশের স্থাপনাগুলো রঙ করার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন আগ্রহ। বিকেল নামলেই সেতু এলাকায় বাড়ছে মানুষের আনাগোনা। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসছেন, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে কিংবা কাপ্তাই হ্রদ ও পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসছেন।
২০২২ সালে উদ্বোধনের পর থেকে চুনিলাল দেওয়ান সেতুটি নানিয়ারচরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সেতুটি চালু হওয়ায় এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি নানিয়ারচরের বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ আরও গতিশীল হয়েছে।
তবে সময়ের সঙ্গে সেতুটি শুধু যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবেই নয়, পর্যটন আকর্ষণ হিসেবেও পরিচিতি পেতে শুরু করেছে। সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে চারপাশের পাহাড়, কাপ্তাই হ্রদের বিস্তৃত জলরাশি এবং বিকেলের নির্মল প্রকৃতি উপভোগের সুযোগ থাকায় প্রতিদিনই স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের দর্শনার্থীদেরও আনাগোনা দেখা যায়।
নতুন রঙের সাজ সেই আকর্ষণকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সেতুর লাল-সাদা রঙের সঙ্গে আশপাশের সড়ক ও কালভার্টে করা জেব্রা ডিজাইন পুরো এলাকাকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রার নান্দনিকতা। বিশেষ করে বিকেলের আলোয় পাহাড়, হ্রদ ও রঙিন সেতুর সমন্বিত দৃশ্য দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, সেতুটি রঙ করার পর এলাকায় মানুষের আনাগোনা আগের তুলনায় বেড়েছে। দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়লে স্থানীয় ছোট ব্যবসা ও অন্যান্য সেবামূলক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন তারা।
দর্শনার্থীদের মতে, নানিয়ারচরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে চুনিলাল দেওয়ান সেতুর নতুন রঙের সাজ যুক্ত হওয়ায় জায়গাটির সৌন্দর্য আরও ফুটে উঠেছে। পরিকল্পিতভাবে সেতুর আশপাশে বসার ব্যবস্থা, আলোকসজ্জা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা গেলে এটি ভবিষ্যতে আরও আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটে পরিণত হতে পারে।
রাঙামাটি সড়ক বিভাগের জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, সড়ক বিভাগের উদ্যোগেই সেতুটি রঙ করা হয়েছে। নতুন রঙে সেতুটির সৌন্দর্য আরও ফুটে উঠেছে। স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকদের কাছে জায়গাটি আরও আকর্ষণীয় করে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রকৃতি, পাহাড় ও কাপ্তাই হ্রদের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের সঙ্গে আধুনিক অবকাঠামোর এই সমন্বয় নানিয়ারচরের পর্যটন সম্ভাবনাকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে চুনিলাল দেওয়ান সেতু শুধু যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নয়, নানিয়ারচরের একটি পরিচিত পর্যটন আকর্ষণ হিসেবেও জায়গা করে নিতে পারে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।