টেকনাফ সীমান্তে দেড় লাখ ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদী সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় ১ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ হেলাল মিয়া (২৫) নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় তার সঙ্গে থাকা অপর এক ব্যক্তি কৌশলে পালিয়ে যায়।
আটক হেলাল মিয়া টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাঞ্জরপাড়া এলাকার মো. সোলেমানের ছেলে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনচিপ্রাং বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার জসিমের ঘের নামক স্থানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম (জি)।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উনচিপ্রাং বিওপির একটি বিশেষ টহল দল জসিমের ঘের এলাকায় অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে দুই ব্যক্তিকে প্রবেশ করতে দেখে বিজিবি সদস্যরা তাদের থামার জন্য চ্যালেঞ্জ করেন। এ সময় দুজনই পালানোর চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা ধাওয়া করে হেলাল মিয়াকে আটক করতে সক্ষম হন। তবে তার সঙ্গে থাকা অপর ব্যক্তি অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে আটক হেলাল মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালায় বিজিবি। এ সময় দুটি পোটলার ভেতরে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো নীল রঙের বায়ুরোধী প্যাকেট পাওয়া যায়। প্যাকেটগুলো খুলে তল্লাশি করে মোট ১৫টি প্যাকেট থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি জানায়, উদ্ধার করা ইয়াবাগুলো দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ ও পরিবহনের উপযোগী করে বিশেষভাবে বায়ুরোধী প্যাকেটে মোড়ানো ছিল। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালানো হলেও ইয়াবা ছাড়া অন্য কোনো অবৈধ সামগ্রী পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হেলাল মিয়া মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবাগুলো সংগ্রহ করে অধিক দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে নিয়ে আসছিলেন বলে বিজিবির কাছে স্বীকার করেছেন বলে জানানো হয়েছে।
বিপুল পরিমাণ ইয়াবার এই চালানের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, কোথা থেকে চালানটি সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং দেশের অভ্যন্তরে কোথায় সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। একই সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।
উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম (জি) বলেন, সীমান্ত দিয়ে মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। মাদক সরবরাহকারী ও চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সীমান্ত পাহারার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও বিজিবি দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার বন্ধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী টেকনাফের নাফ নদী দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছে। দুর্গম সীমান্ত এলাকা ও নদীপথকে কাজে লাগিয়ে মাদক কারবারিরা বিভিন্ন সময়ে বড় চালানে ইয়াবা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করে থাকে। এ কারণে সীমান্তে বিজিবির টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
সর্বশেষ অভিযানে দেড় লাখ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা সীমান্ত দিয়ে বড় চালানে মাদক প্রবেশের চেষ্টার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই চালানের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে শনাক্ত করা সম্ভব হলে টেকনাফের নাফ নদীকেন্দ্রিক মাদক পাচারের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।