নানিয়ারচরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাঙামাটির নানিয়ারচরে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে নানিয়ারচর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহযোগিতায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে র্যালিটি বের হয়ে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে র্যালিটি উপজেলা পরিষদ চত্বরে ফিরে শেষ হয়।
র্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কৃষ্ণলাল দেবনাথের সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন নানিয়ারচর অফিসার্স ক্লাবের সেক্রেটারি সারোয়ার কামাল।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নানিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুর পেয়ারা বেগম। তিনি বলেন, সাক্ষরতা শুধু অক্ষরজ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবন, কর্মসংস্থান, সামাজিক সচেতনতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতার সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
ইউএনও নুর পেয়ারা বেগম বলেন, “জীবনমুখী শিক্ষার আলোয় সাক্ষরতা দিবসের সফলতা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু গতানুগতিক শিক্ষাই নয়, লেখাপড়ার পাশাপাশি বাস্তবজীবনে কাজে লাগে এমন জীবনমুখী শিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।”

তিনি বলেন, শিক্ষার সুযোগ যত বিস্তৃত হবে, মানুষের সক্ষমতাও তত বাড়বে। বিশেষ করে পিছিয়ে থাকা ও দুর্গম এলাকার মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি অর্জিত জ্ঞান যেন বাস্তব জীবনে কাজে লাগানো যায়, সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
ইউএনও আরও বলেন, “সরকার শিক্ষার হার বাড়াতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সমৃদ্ধ ও দক্ষ বাংলাদেশ গড়তে আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
সভায় বক্তারা বলেন, একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা একটি মৌলিক ভিত্তি। কেবল পড়তে ও লিখতে পারার সক্ষমতা নয়, বর্তমান সময়ে তথ্য বোঝা, প্রযুক্তি ব্যবহার, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা এবং আর্থিক ও সামাজিক বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বক্তারা আরও বলেন, পাহাড়ি ও দুর্গম অঞ্চলের মানুষের কাছে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দিতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সচেতন মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করার পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্ক ও শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যেও সাক্ষরতা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা জরুরি।
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নানিয়ারচরে শিক্ষার গুরুত্ব, জীবনমুখী শিক্ষা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।