রাঙামাটিতে চুরি যাওয়া ৪২ মোবাইল ও ৭৭ হাজার টাকা উদ্ধার করল ১৮ এপিবিএন

রাঙামাটিতে চুরি যাওয়া ৪২ মোবাইল ও ৭৭ হাজার টাকা উদ্ধার করল ১৮ এপিবিএন

রাঙামাটিতে চুরি যাওয়া ৪২ মোবাইল ও ৭৭ হাজার টাকা উদ্ধার করল ১৮ এপিবিএন
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

রাঙামাটিতে প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান ও পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে চুরি যাওয়া ৪২টি মোবাইল ফোন এবং মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণা ও ভুল নম্বরে পাঠানো মোট ৭৭ হাজার টাকা উদ্ধার করে ভুক্তভোগীদের হাতে তুলে দিয়েছে ১৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।

বুধবার সকালে রাঙামাটি শহরের রিজার্ভ বাজারে অবস্থিত ১৮ এপিবিএন কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদ্ধার করা মোবাইল ফোন ও অর্থ প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এপিবিএন সূত্র জানায়, উদ্ধার করা ৭৭ হাজার টাকার মধ্যে মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ৩০ হাজার টাকা এবং ভুল নম্বরে চলে যাওয়া ৪৭ হাজার টাকা রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের পর প্রযুক্তির সহায়তায় সংশ্লিষ্ট লেনদেন ও মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে এসব অর্থ ও মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

অনুষ্ঠানে ১৮ এপিবিএনের অধিনায়ক (এসপি) মো. রেজাউল করিম বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। সাধারণ মানুষের হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন ও প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ উদ্ধারে ১৮ এপিবিএনের সাইবার ক্রাইম ইউনিট প্রযুক্তিনির্ভর ও পেশাদার পদ্ধতিতে কাজ করছে।

তিনি বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার ঘটনাও বিভিন্নভাবে ঘটছে। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত অভিযোগ করা হলে প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে অপরাধী শনাক্ত ও অর্থ উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ থাকে।

রাঙামাটিতে চুরি যাওয়া ৪২ মোবাইল ও ৭৭ হাজার টাকা উদ্ধার করল ১৮ এপিবিএন

এপিবিএনের অধিনায়ক আরও জানান, কোনো নাগরিকের মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে কিংবা কেউ মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণার শিকার হলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে। পরে জিডির কপি রাঙামাটি এপিবিএন ব্যাটালিয়নের ফেসবুক পেজে পাঠালে সাইবার ক্রাইম ইউনিটের উদ্ধারকারী দল বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

এ সময় তিনি নাগরিকদের অনলাইন ও মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। অপরিচিত ব্যক্তি বা নম্বরে ব্যক্তিগত তথ্য, ওটিপি, পিন কিংবা গোপনীয় ব্যাংকিং তথ্য না দেওয়ার পাশাপাশি অর্থ পাঠানোর আগে প্রাপকের নম্বর ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন ও অর্থ হাতে পেয়ে ভুক্তভোগীরা এপিবিএনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের মতে, হারিয়ে যাওয়া মোবাইল কিংবা প্রতারণার মাধ্যমে খোয়া যাওয়া অর্থ উদ্ধারের বিষয়টি অনেক সময় অনিশ্চিত মনে হলেও প্রযুক্তির ব্যবহার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আন্তরিক তৎপরতায় তা সম্ভব হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন ও প্রতারণার অর্থ উদ্ধারের এ ধরনের কার্যক্রম শুধু ভুক্তভোগীদের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগই তৈরি করছে না, একই সঙ্গে সাইবার ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের আস্থাও বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে দ্রুত অভিযোগ, প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *