লামার দুর্গম তংপং ম্রো পাড়ায় তিন দিনব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি, সেবা পেল ৮৮ নারী-শিশু

লামার দুর্গম তংপং ম্রো পাড়ায় তিন দিনব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি, সেবা পেল ৮৮ নারী-শিশু

লামার দুর্গম তংপং ম্রো পাড়ায় তিন দিনব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি, সেবা পেল ৮৮ নারী-শিশু
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

বান্দরবানের লামা উপজেলার থানছি-ডিমপাহাড় সীমান্তবর্তী অত্যন্ত দুর্গম রূপসীপাড়া ইউনিয়নের তংপং ম্রো পাড়ায় তিন দিনব্যাপী বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় সম্প্রসারিত টিকাদান (ইপিআই) কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি জনপদে বসবাসকারী ম্রো জনগোষ্ঠীর নারী ও শিশুদের নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনতে এ বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। কর্মসূচিতে ৮৮ জন নারী ও শিশুকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়েছে।

লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে এবং মার্কিন সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে বেসরকারি সংস্থা গ্রিন হিলের ‘এমআইএইচআর’ প্রকল্পের সহযোগিতায় গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) থেকে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত তংপং ম্রো পাড়ায় এ বিশেষ কর্মসূচি পরিচালিত হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. গোলাম মোস্তাফা নাদিমের নির্দেশনায় স্বাস্থ্য সহকারী ফিলীপ ম্রোর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। দলের অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন স্বাস্থ্য সহকারী মো. মিজানুর রহমান এবং গ্রিন হিলের এমআইএইচআর প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়ক মংছিংপ্রু মার্মা।

স্বাস্থ্যকর্মীদের দলটি দুর্গম পাহাড়, উঁচু-নিচু পাহাড়ি পথ ও ঝিরি পেরিয়ে তংপং ম্রো পাড়ায় পৌঁছায়। সেখানে স্থানীয় শিশু ও নারীদের যক্ষ্মা, পোলিও, হাম-রুবেলাসহ বিভিন্ন সংক্রামক ও মারাত্মক রোগ প্রতিরোধে টিকা দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিশু ও অন্যান্যদের ম্যালেরিয়া পরীক্ষা, গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসাসেবা এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এমটিইপিআই মো. গোলাম মোস্তফা জানান, তংপং ম্রো পাড়াটি থানছি-ডিমপাহাড় সংলগ্ন রূপসীপাড়া ইউনিয়নের শেষ প্রান্তের একটি দুর্গম জনপদ। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এখানকার বাসিন্দাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেও থানছি বাজারের ওপর নির্ভর করতে হয়। পায়ে হেঁটে পাহাড়ি উঁচু-নিচু পথ পাড়ি দিয়ে লামা বাজারে আসতে তাদের পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা সময় লাগে। আর যানবাহনে আসতে হলে আলীকদম উপজেলা হয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়, যা স্থানীয় মানুষের জন্য সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল।

এমটিইপিআই মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, দুর্গমতার কারণে তংপং ম্রো পাড়ার অনেক নারী ও শিশু নিয়মিত টিকাদান ও স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আসতে পারেন না। এ কারণে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে তাদের কাছে সরাসরি স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদান পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক সমীরণ বড়ুয়া বলেন, যক্ষ্মা, পোলিও, হাম-রুবেলাসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যকর্মীরা দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে এসব এলাকায় পৌঁছান। দুর্গমতা ও প্রতিকূল পরিবেশ উপেক্ষা করে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তাদের এই আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতা প্রশংসনীয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তাফা নাদিম বলেন, “ভৌগোলিক দুর্গমতার কারণে পার্বত্য এলাকার যেসব শিশু ও নারী নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদান কর্মসূচি থেকে বঞ্চিত হয়, তাদের শতভাগ টিকার আওতায় আনতেই এই বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকার সর্বস্তরের মানুষের কাছে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আমাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বাস্থ্য বিভাগের এমন উদ্যোগে স্থানীয় নারী ও শিশুদের টিকাদানসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দুর্গমতার কারণে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা নেওয়া কঠিন এমন জনপদগুলোতে এ ধরনের বিশেষ কর্মসূচি অব্যাহত রাখলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংক্রামক রোগ প্রতিরোধেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *