ভারতে গাজার শিশুদের সমর্থনে ঘুড়ি ওড়ানোয় তিন ফিলিস্তিনপন্থী আটক
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
গাজার শিশুদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ঘুড়ি ওড়ানোর কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় তিন ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন কারীকে আটক এবং এক নারী স্বেচ্ছাসেবীকে পরোয়ানা ছাড়াই দীর্ঘ সাড়ে ৯ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে গৃহবন্দী রেখে তল্লাশি চালানোর অভিযোগ উঠেছে মুম্বাই পুলিশের বিরুদ্ধে। ‘ইন্ডিয়ান পিপল ইন সলিডারিটি উইথ ফিলিস্তিন’ (আইপিএসপি) এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, সম্প্রতি মুম্বাইয়ের একদল সক্রিয়কর্মী গাজার শিশুদের সমর্থনে আয়োজিত আন্তর্জাতিক কর্মসূচি ‘গ্লোবাল গাজা কাইট উইকএন্ড’-এ অংশ নিয়েছিলেন।
আইপিএসপি-র অভিযোগ, প্রথমে সাধারণ পোশাকের কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে হর্ষদা নামের এক নারী স্বেচ্ছাসেবীর বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন এবং তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আটকে রাখেন। পরবর্তীতে পোশাকধারী পুলিশ এসে কোনো ধরনের পরোয়ানা, লিখিত নোটিশ বা আইনি কাগজপত্র ছাড়াই তার পুরো বাড়িতে তল্লাশি চালায়। এ সময় তার বেশ কিছু ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ।
সংগঠনটি আরও জানায়, ঘুড়ি ওড়ানো কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অন্য দুই স্বেচ্ছাসেবীকেও পুলিশ আটক করে জিজ্ঞাসা বাদ করেছে। রাত ২টা ১৫ মিনিটে দেওয়া এক আপডেট বার্তায় আইপিএসপি জানায়, অভিযান শুরু হওয়ার ৯ ঘণ্টারও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও পুলিশ সদস্যরা হর্ষদার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
আইপিএসপি এই ঘটনাকে গণতান্ত্রিক অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, “একটি শিশুর ঘুড়ি ওড়ানো যদি ইসরায়েলি রাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়, তবে গাজার শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে ভারতীয় তরুণদের ঘুড়ি ওড়ানোও কি ভারতীয় রাষ্ট্রের জন্য হুমকি?”
নরেন্দ্র মোদী সরকারের সমালোচনা করে সংগঠনটি অভিযোগ করে, ব্রিকস সম্মেলনে ভারত সরকার মুখে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার কথা বললেও বাস্তবে দেশের ভেতরের ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। মুখে মানবিক উদ্বেগের কথা বললেও ভারতের প্রকৃত অবস্থান ইসরায়েল ও আমেরিকার পাশেই রয়েছে বলে তারা দাবি করে।
পুলিশি হয়রানির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আইপিএসপি আরও জানায়, “ভয় দেখিয়ে দমানোর এই চেষ্টা আমাদের ঐক্যকে আরও মজবুত করবে। মুম্বাই পুলিশের বোঝা উচিত—রাষ্ট্রের দমনপীড়ন যতই বাড়বে, আমাদের প্রতিরোধ তত শক্তিশালী হবে।”পুলিশের এই বেআইনি আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্বাধীন কণ্ঠস্বর ও সাংবাদিকদের প্রতি পুলিশের এমন “ডাইনি শিকার” বা হয়রানি বন্ধে চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।