‘বিজিবির ভাইয়াটার মানবিক আচরণ আমার জীবনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে’

‘বিজিবির ভাইয়াটার মানবিক আচরণ আমার জীবনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে’

‘বিজিবির ভাইয়াটার মানবিক আচরণ আমার জীবনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে’
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

বিজিবির চিকিৎসকেরা আমার মাথার চুল কেটে ক্ষত পরিষ্কার করে দেন। এরপর মাথায় ১০টি সেলাই করেন। রক্তপাত বন্ধ করতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যান্ডেজ করা হয়। আমাকে প্রয়োজনীয় ওষুধ, পানি ও স্যালাইন দেওয়া হয়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে প্রচণ্ড ব্যথা থাকায় চিকিৎসকেরা ব্যথানাশক ওষুধও দেন।

আহত ওই ব্যক্তি বলেন, “বিজিবি সদস্যদের মধ্যে একজন পুরো সময় আমার পাশে ছিলেন। আমি নিজে পানি পান করার শক্তিও হারিয়ে ফেলেছিলাম। তিনি নিজের হাতে আমাকে পানি পান করিয়েছেন। আমার হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মালিশ করে দিয়েছেন। আমার কষ্ট দেখে ওই বিজিবি সদস্যকে কাঁদতেও দেখেছি। তাঁর এই মানবিক আচরণ আমার জীবনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

তিনি বলেন, বিকেল তখন আনুমানিক ৫টা। সীমান্ত ব্যাংকের গেটের একেবারে কাছাকাছি অবস্থান করায় বাইরে থেকে গুলি ও টিয়ারশেলের শব্দ স্পষ্টভাবে তাঁর কানে আসছিল। এ সময় পাশে থাকা বিজিবি সদস্যের কাছ থেকে জানতে পারেন, সায়েন্সল্যাব থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ওই দিকেই আসছেন।

সন্ধ্যার দিকে ওই বিজিবি সদস্য তাঁর নিজের মোবাইল ফোন থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তবে সে সময় তাঁর মনে পড়ে চন্দন স্যারের কথা, যার বাসা শঙ্করে। চন্দন স্যারের মোবাইল নম্বর তাঁর মুখস্থ ছিল। নম্বরটি বিজিবি সদস্যকে দেওয়ার পর তিনি ফোন করে পুরো পরিস্থিতি চন্দন স্যারকে জানান।

“চন্দন স্যার আমার সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, রাস্তায় অনেক গোলাগুলি চলছে। তবে যত দ্রুত সম্ভব তিনি জিগাতলায় আসছেন। পরে বিজিবির ভাইয়েরা একটি রিকশা ভাড়া করে আমাকে তাতে তুলে দেন। রিকশাচালককে বারবার সাবধানে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন,”—বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “আমি রিকশায় করে আমার জীবন বাঁচানো বিজিবির ভাইদের কোনো রকমে বিদায় জানালাম।”

রিকশা চলতে শুরু করার পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। ততক্ষণে কারফিউ ঘোষণা হয়ে গেছে। রাস্তাঘাট ছিল প্রায় জনশূন্য। ধীরে ধীরে রিকশা এগোচ্ছিল। সামান্য নড়াচড়া বা রাস্তায় ধাক্কা লাগলেই মনে হচ্ছিল মাথাটা যেন ছিঁড়ে পড়ে যাবে।

এভাবে প্রচণ্ড কষ্ট সহ্য করে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ মেডিকেলে পৌঁছান তিনি। তখন রাত আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিট।

আহত ওই ব্যক্তি বলেন, “সেদিন বিজিবি সদস্যরা আমাকে বলেছিলেন, ছাত্ররা দেশের জন্য জীবন দিচ্ছে এবং বিজিবি সদস্যরা তাদের পাশে আছেন। তাঁদের কথায় আমি বুঝতে পেরেছিলাম, আন্দোলনকারীদের প্রতি বিজিবি সদস্যদের আন্তরিকতা কতটা গভীর ছিল।”

পরবর্তী সময়ে তিনি জানতে পারেন, আন্দোলনের সময় বিজিবি মহাপরিচালকের বিশেষ নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে আহত আরও অনেক ছাত্র-জনতাকে বিজিবির হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের প্রয়োজনীয় ওষুধও বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়।

তিনি বলেন, সংকটের সময়ে আহত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের এ উদ্যোগ অনেক আহত মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করেছে। তাঁর নিজের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি অন্য আহতদের চিকিৎসায় বিজিবির নেওয়া উদ্যোগও তাঁর কাছে বাহিনীটির মানবিক ভূমিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *