মিয়ানমার-অধিকৃত নাগাল্যান্ডে ড্রোন হামলার অভিযোগ, স্বাধীন তদন্ত দাবি নাগা ছাত্র সংগঠনের
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
মিয়ানমার-অধিকৃত নাগাল্যান্ডে নাগা বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর বারবার ড্রোন হামলার অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নাগা স্টুডেন্টস’ অর্গানাইজেশন (এনএসও)। একই সঙ্গে এসব ঘটনার স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এক বিবৃতিতে এনএসও জানায়, গত ৩ অক্টোবর দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে লাহে টাউনশিপের লাংখো গ্রামে একটি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জানতে পেরেছে। সংগঠনটির দাবি, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী ওই হামলা চালিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, দুটি ড্রোন থেকে একটি আবাসিক বাড়িতে চারটি বোমা ফেলা হয়। বাড়িটি গ্রামের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত। এর মধ্যে দুটি বোমা বিস্ফোরিত হলেও অপর দুটি বিস্ফোরিত হয়নি এবং এখনো ঘটনাস্থলে মাটির নিচে পড়ে রয়েছে বলে দাবি করেছে এনএসও। অবিস্ফোরিত বোমাগুলো স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে, গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করেছে বলেও উদ্বেগ জানিয়েছে সংগঠনটি।
এনএসওর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় অন্তত দুই বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৯ বছর বয়সী পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী এবং একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ রয়েছেন। হামলার সময় বাড়িটির ভেতরে মোট ছয়জন বেসামরিক নাগরিক অবস্থান করছিলেন বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।
অবিস্ফোরিত বোমা নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করে এনএসও বলেছে, সেগুলো নিরাপদে শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার জন্য ঘটনাস্থলে কোনো যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেই বলে তারা জানতে পেরেছে। ফলে যেকোনো সময় এসব বিস্ফোরক বিশেষ করে শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
একটি আবাসিক বাড়িকে লক্ষ্য করে এমন হামলার অভিযোগকে ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ হিসেবে উল্লেখ করে এনএসও বলেছে, ওই বাড়িতে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। বেসামরিক জনগণের বসতবাড়িতে সামরিক হামলার অভিযোগ আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও বেসামরিক সুরক্ষার নীতিমালা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
সংগঠনটি আরও বলেছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে সামরিক অভিযান পরিচালনার অভিযোগ উঠলে তা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং আন্তর্জাতিক আইনে বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নের জন্ম দেয়। এ প্রসঙ্গে তারা জাতিসংঘ সনদের ২(১) অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে, যেখানে রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌম সমতার নীতি স্বীকৃত হয়েছে। একই সঙ্গে ২(৪) অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কোনো রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ কিংবা শক্তি প্রয়োগের হুমকি আন্তর্জাতিক আইনে নিষিদ্ধ।
এনএসওর দাবি, সশস্ত্র সংঘাতের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক ব্যক্তি ও যোদ্ধা এবং বেসামরিক স্থাপনা ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে সামরিক কর্মকাণ্ডে পার্থক্য নির্ণয়, আনুপাতিকতা ও সতর্কতার নীতিও যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে, যাতে বেসামরিক জনগোষ্ঠী অপ্রয়োজনীয় ক্ষতির শিকার না হয়।
ঘটনাটির বিষয়ে অবিলম্বে স্বচ্ছ তদন্তের জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এনএসও। তদন্তে কেউ বেআইনি কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী প্রমাণিত হলে প্রযোজ্য আইনের আওতায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তের ওপারে বসবাসরত বেসামরিক জনগোষ্ঠী যাতে সামরিক অভিযানের কারণে ঝুঁকিতে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
মিয়ানমার সরকারের প্রতিও ক্ষতিগ্রস্ত বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত, ঘটনার তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় জাতীয়, কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টি উত্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে এনএসও।
এ ছাড়া জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং মানবিক সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি ঘটনাগুলো নজরে নেওয়া এবং স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
এনএসও বলেছে, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বেসামরিক নাগরিক ও তাদের পরিবারের ন্যায়বিচার, জবাবদিহি এবং নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আরও ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান দেখানো এবং অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
বিবৃতিতে আহত বেসামরিক নাগরিকদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বিশেষ করে আহত ৯ বছর বয়সী স্কুলছাত্রীর দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেছে এনএসও। একই সঙ্গে চলমান পরিস্থিতিতে নাগা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।