মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, টেকনাফে ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ জেলেকে বিজিবির খাদ্যসহায়তা

মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, টেকনাফে ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ জেলেকে বিজিবির খাদ্যসহায়তা

মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, টেকনাফে ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ জেলেকে বিজিবির খাদ্যসহায়তা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে কক্সবাজারের টেকনাফে ১০০ জন অসহায় ও দুস্থ জেলের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে সাময়িক জীবিকা সংকটে পড়া জেলেদের সহায়তায় এ উদ্যোগ নেয় টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত টেকনাফ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী টেকনাফ পৌরসভা ও মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন হাজাছড়া এলাকায় এ সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় ১০০ জন জেলের প্রত্যেকের হাতে চাল, আটা, তেল, ডাল, চিনি ও লবণ তুলে দেওয়া হয়।

মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, টেকনাফে ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ জেলেকে বিজিবির খাদ্যসহায়তা

সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ জলসীমায় গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সব ধরনের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকারি এ নিষেধাজ্ঞার কারণে সমুদ্রনির্ভর জেলেরা মাছ ধরা থেকে বিরত রয়েছেন। এতে সীমান্তবর্তী এলাকার অনেক জেলে পরিবার আর্থিক সংকটের পাশাপাশি খাদ্যসংকটেও পড়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারগুলোর দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব করতে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ নেয় বিজিবি। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহায়তা করা বিজিবির নিয়মিত জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের অংশ।

টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘বিজিবি হবে সীমান্তে নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক’—মহাপরিচালকের এ ভিশন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিজিবি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, টেকনাফে ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ জেলেকে বিজিবির খাদ্যসহায়তা

তিনি আরও বলেন, সীমান্তের মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা এবং প্রয়োজনের সময় মানবিক সহায়তা দেওয়া বিজিবির দায়িত্বেরই একটি অংশ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় জেলেরা জানান, মাছ আহরণ বন্ধ থাকায় অনেক জেলে পরিবারকে কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে। এ সময়ে বিজিবির দেওয়া খাদ্যসামগ্রী তাঁদের পরিবারের খাদ্যসংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজে আসবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের জীবন-জীবিকার সংকটে সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে বিজিবি মানবিক দায়িত্ব পালনেরও দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। দেশের সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর কল্যাণে এ ধরনের মানবিক ও জনসেবামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে বিজিবি।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *