দুর্গম পাহাড়ের নারী ফুটবলারদের সাফল্যে নতুন আশার আলো, উন্নয়নে সরকার আন্তরিক: পার্বত্য মন্ত্রী

দুর্গম পাহাড়ের নারী ফুটবলারদের সাফল্যে নতুন আশার আলো, উন্নয়নে সরকার আন্তরিক: পার্বত্য মন্ত্রী

দুর্গম পাহাড়ের নারী ফুটবলারদের সাফল্যে নতুন আশার আলো, উন্নয়নে সরকার আন্তরিক: পার্বত্য মন্ত্রী
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

দুর্গম পাহাড়ি জনপদে যোগাযোগ, চিকিৎসা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সংকট মোকাবিলায় সরকার আন্তরিক বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিংপ্রু জেরী এমপি। তিনি বলেছেন, পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি তরুণ-তরুণীদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। বিশেষ করে খেলাধুলার মাধ্যমে পাহাড়ের প্রতিভাবান তরুণ-তরুণীরা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জন এবং এলাকার সুনাম ও সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে বান্দরবানের থানচি উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে বিজিবির বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা পর্যায়ে ‘নতুন কুঁড়ি’ ও ‘সম্প্রীতির বান্দরবান কাপ’-এ টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া থানচি নারী ফুটবল দলের ১৯ খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্ট তিনজনকে এ অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে পার্বত্য মন্ত্রী বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মেয়েরা নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও যে সাফল্য অর্জন করেছে, তা অত্যন্ত গৌরবের। জেলা পর্যায়ে টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের দক্ষতা, কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবলের পরিচয় দিয়েছে। এই অর্জন শুধু একটি ফুটবল দলের বিজয় নয়, বরং পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বেড়ে ওঠা মেয়েদের এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা ও সম্ভাবনারও প্রতিফলন।

তিনি বলেন, প্রত্যন্ত পাহাড়ি জনপদে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় থাকলেও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও প্রশিক্ষণের অভাবে তাদের প্রতিভা বিকশিত হওয়ার পথ বাধাগ্রস্ত হয়। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় ক্রীড়াসামগ্রী এবং উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে পাহাড়ের খেলোয়াড়েরাও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারবে। তাদের অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়া এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো করার জন্য উৎসাহিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

থানচি নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা দেওয়ার উদ্যোগের প্রশংসা করে সাচিংপ্রু জেরী বলেন, খেলোয়াড়দের সাফল্যকে সম্মান জানানো এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে বিজিবির এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় আগ্রহী করে তোলার পাশাপাশি তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীদের একসঙ্গে খেলাধুলায় অংশগ্রহণ পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে।

দুর্গম পাহাড়ের নারী ফুটবলারদের সাফল্যে নতুন আশার আলো, উন্নয়নে সরকার আন্তরিক: পার্বত্য মন্ত্রী

থানচির সামগ্রিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে পার্বত্য মন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান ও দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে এ উপজেলার মানুষের জীবনযাত্রায় নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতা, শিক্ষার সুযোগের ঘাটতি এবং কর্মসংস্থানের সংকট স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যা মোকাবিলায় উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি মৌলিক সেবা সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে স্থানীয় মানুষের বাস্তব সমস্যা ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিতে হবে। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, চিকিৎসাসেবার সুযোগ বৃদ্ধি, শিক্ষার প্রসার এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ।

খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, খেলাধুলা কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলার অন্যতম ক্ষেত্র। পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের যথাযথ পরিচর্যা ও সুযোগ দেওয়া গেলে তারা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে সাফল্য অর্জন করতে পারবে। থানচির নারী ফুটবলারদের এই অর্জন অন্য তরুণ-তরুণীদেরও খেলাধুলায় এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে ৩৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মেজর মো. জাকির হোসেন সঞ্চালনা করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির বান্দরবান সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মুহাম্মদ রুবায়াত জামিল, ৩৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন, থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল আল ফয়সার এবং থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কানন সরকার।

এ ছাড়া ৩৮ বিজিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, মন্ত্রীর স্থানীয় প্রতিনিধি মংশৈম্রাই মারমা, থানচি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খামলাই ম্রোসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

থানচির নারী ফুটবল দলের এই অর্জন দুর্গম পাহাড়ি জনপদের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে। খেলোয়াড়দের সাফল্যের স্বীকৃতি, তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে পাহাড়ের আরও অনেক প্রতিভাবান তরুণ-তরুণী নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরার সুযোগ পাবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed