মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো ৪০০ রোহিঙ্গাসহ রাখাইনবাসী জান্তা হেফাজতে, ব্যাখ্যা চাইবে মালয়েশিয়া
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
মালয়েশিয়া থেকে সম্প্রতি মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো শত শত অভিবাসীকে দেশটির সামরিক বাহিনী আটক করে রেখেছে—এমন খবরের পর মিয়ানমার সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চাইবে মালয়েশিয়া। সোমবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসান এ কথা জানিয়েছেন।
গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিয়ানমারের নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠায় মালয়েশিয়া। যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর এই উদ্যোগ তাদের জীবন ও নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ জানিয়েছে।
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশটিতে অভিবাসীবিরোধী মনোভাব বাড়তে থাকায় আটককেন্দ্রগুলোতে থাকা এসব ব্যক্তি ‘স্বেচ্ছায়’ দেশে ফিরতে সম্মত হয়েছিলেন। অন্যদিকে, জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনার মুখে মিয়ানমার বিদেশে বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের ‘নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ’ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
সোমবার মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসান জানান, মিয়ানমারে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স অভিযোগগুলো তদন্ত করবেন এবং আটক থাকার খবর পাওয়া ব্যক্তিদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেবেন।
এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “৩০০ জন এখনো আটক রয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেলে আমরা মিয়ানমার সরকারের কাছে এর ব্যাখ্যা চাইব।”
তিনি আরও বলেন, “মিয়ানমার সরকার আমাদের যে আশ্বাস দিয়েছিল, তা যেন বাস্তবায়ন করা হয়, সে বিষয়েও আমরা তাদের অনুরোধ জানাব।”
মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ডেমোক্রেটিক ভয়েস অব বার্মা (ডিভিবি) গত বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানায়, চলতি মাসের শুরুর দিকে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরা রাখাইন সম্প্রদায়ের ৪০০ জনের বেশি মানুষ ইয়াঙ্গুনে পৌঁছানোর পরও ‘সামরিক বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন’।
তারা মোট ১ হাজার ৪৭৬ জন প্রত্যাবাসিত ব্যক্তির একটি দলের সদস্য। জাহাজে করে ইয়াঙ্গুনের বাইরে এসে পৌঁছানো এই দলটি ছিল মালয়েশিয়া থেকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রথম দল। মালয়েশিয়ার দাবি, দেশটিতে অভিবাসীবিরোধী মনোভাব বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মিয়ানমার মোট ৫ হাজার নাগরিককে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ৩ হাজার ৫২৪ জনকে প্রত্যাবাসনের কথা রয়েছে।
জাতিসংঘ সতর্ক করে জানিয়েছে, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে গৃহযুদ্ধে জর্জরিত মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিরাপদে নিজ দেশে ফেরার নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়।
অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী এবং বর্তমানে প্রেসিডেন্ট হওয়া মিন আউং হ্লাইংকে বিদেশের অনেক দেশের রাজধানীতে এখনো কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম চলতি মাসের শুরুতে মিয়ানমারের অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানান।
সফরকালে মিন আউং হ্লাইং বলেন, মালয়েশিয়ার আটককেন্দ্রগুলোতে থাকা তার দেশের নাগরিকদের ‘যত দ্রুত সম্ভব’ ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “যাদের নাগরিকত্ব যাচাই করা হয়েছে, তাদের আমরা যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরিয়ে নেব।”
তবে স্বচ্ছতার অভাব থাকা এই প্রত্যাবাসন কর্মসূচি নিয়ে মানবাধিকার পর্যবেক্ষকেরা সমালোচনা করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, এর আওতায় জাতিগত রোহিঙ্গাদেরও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হতে পারে। দেশটিতে রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিন ধরে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, যা মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে গণহত্যার পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।