কাপ্তাইয়ে আন্তর্জাতিক মেয়েশিশু দিবস উদযাপন, বাল্যবিবাহ বন্ধে অঙ্গীকার
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মেয়েশিশুর অধিকার সুরক্ষা এবং তাদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বানের মধ্য দিয়ে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে আন্তর্জাতিক মেয়েশিশু দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে কুইজ প্রতিযোগিতা, র্যালি, সচেতনতামূলক ভিডিও প্রদর্শন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অঙ্গীকার, পুরস্কার বিতরণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় কাপ্তাই উচ্চ বিদ্যালয়ে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা উন্নয়নের মাধ্যমে মেয়েশিশু ও নারীর ক্ষমতায়ন প্রকল্পের (WGEIE) উদ্যোগে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এ বছরের দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল—‘বাল্যবিবাহ বন্ধ করুন, মেয়েশিশুর অধিকারে বিনিয়োগ করুন’। মেয়েশিশুদের অধিকার সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, তাদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য উথোয়াই মং মারমা। বক্তব্যে তিনি বলেন, মেয়েশিশুরা সমাজ ও দেশের ভবিষ্যৎ। তাই তাদের সুরক্ষা, শিক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। বাল্যবিবাহ বন্ধ করে মেয়েশিশুদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি তাদের আত্মবিশ্বাসী ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
কাপ্তাই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহাবুব হাসান বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শিক্ষক মো. ইব্রাহিম। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কাপ্তাই উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইকরাম হোসেন বেলাল, কাপ্তাই থানার উপপরিদর্শক মো. হেলাল, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের উপজেলা এডুকেশন ফ্যাসিলিটেটর মংসিং উ মারমা ও মহিউদ্দিন মহিম, কাপ্তাই উচ্চ বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক হারুনুর রশিদ, ‘রূপসী কাপ্তাই’-এর সম্পাদক কাজী মোশাররফ হোসেন, কাপ্তাই প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ঝুলন দত্ত এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অফিস সুপার সালেহ আহমেদ সেলিম।
অনুষ্ঠানে মেয়েশিশুর অধিকার, বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব এবং তাদের শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। কুইজ প্রতিযোগিতা ও সচেতনতামূলক ভিডিও প্রদর্শনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে মেয়েশিশুদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় সম্মিলিত দায়িত্বের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়বে। একই সঙ্গে মেয়েশিশুদের অধিকার রক্ষা, শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং তাদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ আরও জোরদার হবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।