‘নেত্র নিউজ’-এ পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে অপপ্রচার

‘নেত্র নিউজ’-এ পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে অপপ্রচার

‘নেত্র নিউজ’-এ পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে অপপ্রচার
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবানে বসবাসরত পাহাড়ি ও বাঙালিদের শান্তি রক্ষায় নিয়োজিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দেশে-বিদেশে বিতর্কিত করতে আবারও মাঠে নেমেছে চিহ্নিত শক্তিশালী চক্র। দেশে বিদেশে বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং ফেসবুকে সেনাবাহিনীকে নিয়ে ঢালাওভাবে নানা ধরণের প্রোপাগান্ডা ও ভুয়া খবর ছড়িয়ে দিতে তৎপর হয়ে উঠেছে চক্রটি।

সম্প্রতি ‘নেত্র নিউজ’-এর একটি ফটো স্টোরি ও নিবন্ধে পার্বত্য চট্টগ্রামকে ‘অধিকৃত’, ‘সামরিকীকরণকৃত’ বা ‘সামরিক শাসনাধীন’ অঞ্চল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এরআগে খাগড়াছড়ির সহিংসতা, পাহাড়ে সেনাক্যাম্প স্থাপন নিয়ে ফেসবুকে প্রোপাগাণ্ডা ছড়িয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করে পাহাড়ি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। পাহাড়ি সশস্ত্রগোষ্ঠী নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন পেজ থেকে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা, ভুয়া পোস্টকার্ড তৈরি করে প্রচার করে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মাঝে বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

এসব মিথ্যা সংবাদ প্রচার করার মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যে গৌরবময় ইতিহাস ও ত্যাগ- তা ধুলিসাৎ করার পাশাপাশি বছরজুড়ে পাহাড়কে অস্থিতিশীল করে রাখাই এসব সিন্ডিকেটের প্রধান টার্গেট বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পাহাড়ের বাসিন্দারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে পার্বত্য চট্টগ্রামের জাতিগত সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়নকারীর যে অভিযোগ তুলে ধরছে চক্রটি, বাস্তবে এই রকম কোনো ঘটনাই চোখে পড়েনি কারো। এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার থেকে জানানো হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের সার্বভৌম ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি সর্বদা বেসামরিক কর্তৃত্বের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে।

জানা গেছে,পাহাড়ি দুই সশস্ত্র সংগঠন- ইউপিডিএফ ও জেএসএসের খুনোখুনি এবং তাদের চাঁদাবাজি, এনজিওদের দৌরাত্ম্য, প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারত ও মিয়ানমারের গভীর ষড়যন্ত্র প্রায়সময় পাহাড়কে অস্থিতিশীল করে তুলছে। এই অবস্থায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে নানা উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর সময়োপযুগী পদক্ষেপ গ্রহণে- স্থানীয়দের মাঝে তৈরি হয়েছে আস্থা।

পরিসংখ্যান বলছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৮ লাখ ৪২ হাজারের বেশি। বিশাল সংখ্যক এই জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা রক্ষায় সেনাবাহিনীর অনেক সদস্যকে অতীতে নিজের প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার অগ্রভাগে রয়েছে। সড়ক, সেতু, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ সবখানেই রয়েছে তাদের নিরলস পরিশ্রম। বিপদে-দুর্দিনে সেনাবাহিনীকে কাছে পেয়ে পাহাড়ের বাসিন্দারা বলছেন, এই অঞ্চলের মানুষকে মূলধারার সাথে যুক্ত করতে তাদের যে অবদান, তা কখনোই ভোলার নয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর কোনো বিকল্প নেই। পাহাড়কে অস্থিতিশীল করতে যারা নানা ধরণের ষড়যন্ত্র করছেন, তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে সমন্বিতভাবে ডাক দেওয়ার কথাও লিখেছেন অনেকে ফেসবুকে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, পাহাড়ে অস্ত্রবাজি, চাঁদাবাজি নির্মূলের কারণে সেনাবাহিনী পাহাড়ি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর চক্ষুশূল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে তারা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র করছে। পাহাড় থেকে দ্রুত নিরাপত্তা বাহিনীকে সরিয়ে পুনরায় তাদের আধিপত্য বিস্তারের একটি অপকৌশল এটি।

তিনি বলেন, যার যার অবস্থান থেকে দল-মত-নির্বিশেষে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তাতে ষড়যন্ত্র রোধ করা কঠিন। বেশি প্রয়োজন ধৈর্য ও ঐক্যের। আমাদের বাংলাদেশি হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। উগ্র সন্ত্রাসীদেরকে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে চিরতরে বিতাড়িত ও নিষিদ্ধ করতে হবে, এ অঞ্চলে দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূর করে ন্যায় ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে বাংলাদেশ আর্মির উল্লেখ করে অবসরপ্রাপ্ত বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মাহমুদ হোসেন বলেন, আমি ১৯৮০ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে সাত বছর ফ্লাইং করেছি। দেখেছি, বাংলাদেশ আর্মি পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বভৌমত্ব ও অখন্ডতা বজায় রাখতে কত প্রাণ দিয়েছে, সে কারণে এখনো পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের একটি অংশ হিসেবে রয়েছে। অনেকেই অনেক কথা বলবেন- পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি চাই, আর্মির উপস্থিতি চাই না। সেনাবাহিনীর কারণেই সেখানের সার্বভৌমত্ব ও অখন্ডতা এখনো বজায় রয়েছে।

রাওয়া চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) আবদুল হক বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠা পার্বত্য চট্টগ্রাম দীর্ঘদিনের, আজকের কোনো নতুন সমস্যা নয়, বহুদিনের সমস্যা। শান্তি প্রতিষ্ঠায় ছাড়া সেই অংশটুকু বাংলাদেশের ভবিষ্যতে রাখা যাবে কিনা সন্দেহ আছে। আন্তর্জাতিক চক্রান্তের শিকার, এটা স্বাভাবিক। আন্তর্জাতিক চক্রান্ত, দেশের শত্রুদের চক্রান্ত, তারা করতেই থাকবে, ভবিষ্যতেও করবে। কিন্তু সেটা থেকে বাঁচার জন্য যেটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, আমাদের জাতীয় ঐক্য। দল-মত, বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একত্রিত হতে হবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *