মিয়ানমারের নির্বাচন: ভোটদানে জান্তা সরকারের জবরদস্তি, গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন

মিয়ানমারের নির্বাচন: ভোটদানে জান্তা সরকারের জবরদস্তি, গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন

মিয়ানমারের নির্বাচন: ভোটদানে জান্তা সরকারের জবরদস্তি, গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ডিসেম্বরে মিয়ানমারে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে জনগণকে জোরপূর্বক ভোটদানে বাধ্য করতে যাচ্ছে দেশটির জান্তা সরকার। গত শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশন। পাশাপাশি, ইভিএম পদ্ধতিকে প্রভাবিত করতে সামরিক সরকার চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ সংস্থাটির। এছাড়া এবারের নির্বাচনে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল অংশ না নেয়ায় এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে অনেক মানবাধিকার সংগঠন। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে ভয়াবহ মানবিক সংকটের কবলে মিয়ানমার।

২০২১ সালে গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সুচি ও তার রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিকে হটিয়ে মিয়ানমারের ক্ষমতাভার গ্রহণ করে দেশটির সেনাবাহিনী। এরপর থেকেই গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত এশিয়ার দেশটি। জাতিসংঘ জানায়, চার বছরেরও বেশি সময় ধরে সংঘাতে দেশটিতে প্রাণহানির সংখ্যা ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছে। এসময় ভিটেমাটি হারিয়ে বাস্ত্যুচুত হয়েছে ত্রিশ লাখেরও বেশি মানুষ।

মিয়ানমারের অন্তত ২১ শতাংশ ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে দেশটির সামরিক সরকার। অন্যদিকে অন্যান্য জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো দেশটির ৪২ শতাংশ ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে। এমন জটিল পরিস্থিতিতে ডিসেম্বরে দেশটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন। এটিকে সামনে রেখে এরই মধ্যে দেশটির বিরোধী মতের প্রায় নয় হাজার কারাবন্দির সাজা কমানো ও মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোর খবর আসন্ন ভোটে জনগণের অবাধ ও সুষ্ঠু অংশগ্রহণ নিশ্চিতে কাজ করছে জান্তা সরকার।

কিন্তু বাস্তব চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন। শুক্রবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশন জানায়, অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে জনগণকে জোরপূর্বক ভোট প্রদানে বাধ্য করতে যাচ্ছে জান্তা সরকার। পাশাপাশি জান্তা প্রধানের বিরুদ্ধে ইভিএম পদ্ধতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাওয়ার চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। এনিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘও।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের মিয়ানমার প্রধান জেমস রডেহেভার বলেন, ‘বাস্তুচ্যুতদের ভোট নিশ্চিতে তাদেরকে দ্রুত গ্রামে ফেরার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া তাদেরকে ভয়-ভীতি প্রদর্শনও করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ভোট না দিলে তাদের ওপর বোমাবর্ষণ চলমান থাকবে।’

১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা লাভের পর দেশটির রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে যাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী। এর আগেও বেশ কয়েকবার সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশটির ক্ষমতাভার গ্রহণ করে জান্তা বাহিনী। মিয়ানমারের সংবিধানও বিশেষ সুবিধা দিয়েছে দেশটির সামরিক শাখাকে। সংবিধান অনুযায়ী, দেশটির মোট আসনের এক চতুর্থাংশ বরাদ্দ রয়েছে দেশটির সামরিক অফিসারদের জন্য।

মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক ধারা ফেরানোর লক্ষ্যে জান্তা সরকার নির্বাচন আয়োজনের কথা বললেও রাজনৈতিক দলগুলো ভোট বর্জন করায় এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছে। এরই মধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে থাইল্যান্ড সরকার। দেশটি দ্রুত জান্তা সরকারের কাছে অং সান সুচির মুক্তি চেয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *