ঘরে ফেরার সাংবিধানিক অধিকারের দাবিতে মণিপুরে বাস্তুচ্যুত মানুষের বিক্ষোভ
![]()
নিউজ ডেস্ক
ভারতের মণিপুরে জাতিগত সহিংসতায় বাস্তুচ্যুত কয়েকশ মানুষ রোববার ইমফল রাজভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছেন। ঘরে ফেরার সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন। গত ২০২৩ সালের মে মাসে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে তারা বিভিন্ন ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়ে আছেন। বিক্ষোভকারীরা চুরাচাঁদপুর, কাংপোকপি, ইমফল পশ্চিম ও ইমফল পূর্ব জেলা থেকে এসে এ সমাবেশে অংশ নেন।
চলমান সাংগাই পর্যটন উৎসব শুরুর সময়ই এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হওয়ায় ক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বাস্তুচ্যুতদের অভিযোগ— হাজারো মানুষ যখন ঘরে ফিরতে পারছে না, তখন উৎসব উদ্যাপন সরকারের সংবেদনহীনতারই বহিঃপ্রকাশ।
বিক্ষোভকারীরা হাতে ছিল “Displaced lives matter”, “People boycott Sangai festival”, “Rights first, tourism later” এবং “Ensure our fundamental rights” লেখা প্ল্যাকার্ড। তাদের দাবি, সরকার পুনর্বাসন ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।
পুলিশ জানায়, রাজভবন থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে, কাংলা গেটের কাছে নিরাপত্তাবাহিনী বিক্ষোভকারীদের পথরোধ করে। এরপর তারা দিক পরিবর্তন করে ইমফল পশ্চিম জেলার উরিপক এলাকার দিকে র্যালি নিয়ে যান।
সাংগাই উৎসব শুরু হওয়ার পর ২১ নভেম্বর থেকে বাস্তুচ্যুতদের ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ এটি। বিক্ষোভকারীরা মনে করছেন— উৎসব আয়োজনের মাধ্যমে সরকার ‘স্বাভাবিক পরিস্থিতি’ দেখানোর চেষ্টা করছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
চুরাচাঁদপুর জেলার বাস্তুচ্যুত ইরোম আবুং মেইতেই বলেন, “সরকারের প্রতি বাড়তে থাকা হতাশা থেকেই আমরা আজ রাস্তায় নেমেছি। বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্দশা উপেক্ষা করে সাংগাই উৎসব আয়োজন করে সরকার স্বাভাবিকতার দাবি তুলছে— এটি গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি আরও জানান, “আমরা আগামী দিনগুলোতে আন্দোলন আরও কঠোর করব, আর ত্রাণশিবিরে ফিরে যাব না।” তাঁর বক্তব্যে আন্দোলনকারীদের দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সাংগাই উৎসব শুরুর পর থেকে কয়েক দফায় বাস্তুচ্যুতদের সঙ্গে নিরাপত্তাবাহিনীর মুখোমুখি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও বলছে, পর্যটন উৎসবের আগে বাস্তুচ্যুতদের অধিকার ও পুনর্বাসনকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মে মাসে ইমফল ভ্যালিভিত্তিক মেইতেই এবং পার্বত্য এলাকার কুকি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত ২৬০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন এবং হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে ত্রাণশিবিরে জীবনযাপন করছেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।