ভাল্লুকের হামলায় আহত পাহাড়ি ঝুমচাষিকে চিকিৎসা দিয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করল সেনাবাহিনী

ভাল্লুকের হামলায় আহত পাহাড়ি ঝুমচাষিকে চিকিৎসা দিয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করল সেনাবাহিনী

ভাল্লুকের হামলায় আহত পাহাড়ি ঝুমচাষিকে চিকিৎসা দিয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করল সেনাবাহিনী
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

বান্দরবান পার্বত্য জেলার আলীকদম উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ঝুম চাষের সময় বন্য ভাল্লুকের আক্রমণে এক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের ব্যক্তি গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা দিয়ে আবারও দায়িত্বশীলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

পাহাড়ে যখন নানা ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে, তখন এই ঘটনাটি বাস্তব চিত্র হিসেবে তুলে ধরছে সেনাবাহিনীর নীরব ও নিঃস্বার্থ ভূমিকা।

জানা যায়, আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে সেনাবাহিনীর ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড ও বান্দরবান রিজিয়নের আলীকদম জোন অধীনস্থ বলাই পাড়া আর্মি ক্যাম্পের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার খাইক্ষং পাড়া সংলগ্ন জঙ্গলে ঝুম চাষের সময় খাইদং ম্রো (৫২) নামের এক ব্যক্তি হঠাৎ একটি বন্য ভাল্লুকের আক্রমণের শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে বলাই পাড়া আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে আসেন।

ভাল্লুকের হামলায় আহত পাহাড়ি ঝুমচাষিকে চিকিৎসা দিয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করল সেনাবাহিনী

আহত ব্যক্তি ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর সেনাবাহিনীর মেডিক্যাল সহায়তা দল দ্রুত ও পেশাদারভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে। কর্তব্যরত মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যথানাশক ইনজেকশন দেন, টিটি টিকা প্রদান করেন এবং প্রয়োজনীয় ড্রেসিং সম্পন্ন করেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও এই তাৎক্ষণিক চিকিৎসা আহত ব্যক্তির জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরে বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে সেনাবাহিনী ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।

স্থানীয়রা জানান, পাহাড়ি এলাকায় বন্যপ্রাণীর আক্রমণ একটি নিত্যদিনের আতঙ্ক। যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় অনেক সময় চিকিৎসা পাওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এমন বাস্তবতায় সেনাবাহিনীর ক্যাম্পগুলো শুধু নিরাপত্তা নয়, বরং জরুরি চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তার নির্ভরযোগ্য আশ্রয় হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের বিপদে সেনাবাহিনীর এই দ্রুত সাড়া স্থানীয়দের মধ্যে আস্থা ও নিরাপত্তাবোধ আরও জোরদার করেছে।

ভাল্লুকের হামলায় আহত পাহাড়ি ঝুমচাষিকে চিকিৎসা দিয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করল সেনাবাহিনী

গুজবের বিপরীতে নীরব মানবিকতায় সেনাবাহিনী

সংশ্লিষ্টদের মতে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাহাড়ে কর্তব্যরত সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার ও ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়ানো হলেও পাহাড়ের বাস্তব চিত্র ভিন্ন। দুর্গম গ্রামগুলোতে সেনাবাহিনী নীরবে চিকিৎসা সহায়তা, খাদ্য ও ত্রাণ বিতরণ, দুর্যোগকালীন উদ্ধার এবং জরুরি পরিবহনের মতো কাজ করে যাচ্ছে, যেখানে কোনো প্রচার নেই, কোনো ক্যামেরা নেই— রয়েছে শুধু দায়িত্ববোধ আর মানবিকতা।

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বলছেন, পাহাড়ে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি মানে শুধু নিরাপত্তা নয়, বরং বিপদের সময় একজন নির্ভরযোগ্য সহযোদ্ধা। বন্যপ্রাণীর আক্রমণ, দুর্ঘটনা বা অসুস্থতায় সেনাবাহিনীর সদস্যরাই প্রথমে এগিয়ে আসেন। এই বাস্তব অভিজ্ঞতাই প্রমাণ করে, অপপ্রচারের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।

প্রসঙ্গত, আলীকদমসহ বান্দরবানের বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা সহায়তা, মানবিক কার্যক্রম ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে, যা পাহাড়ে শান্তি, আস্থা ও সহাবস্থানের পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

You may have missed