অনিয়মে নাজেহাল আলীকদম বাজারে শৃঙ্খলার হস্তক্ষেপ: সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের যৌথ মনিটরিং অভিযান
![]()
নিউজ ডেস্ক
দীর্ঘদিনের ফুটপাত দখল, অবৈধ স্থাপনা, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ও হোটেল-মোটেলের নানা অনিয়মে নাজেহাল হয়ে পড়া বান্দরবান পার্বত্য জেলার আলীকদম বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে আলীকদম সেনা জোন ও উপজেলা প্রশাসন।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ২০ মিনিট পর্যন্ত চলা এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন আলীকদম সেনা জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শাদমান সাকিব এবং আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মনজুর আলম।
অভিযানের শুরুতেই বাজার সংলগ্ন ফুটপাত ও সড়কের ওপর দখল করে গড়ে ওঠা দোকানপাট, অস্থায়ী স্থাপনা ও অব্যবস্থাপনার চিত্র সামনে আসে। সেনাবাহিনীর টহল দল ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা দখলদারদের অবৈধ স্থাপনা অপসারণে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন এবং নিয়মবহির্ভূত দোকানগুলো চিহ্নিত করেন। সেনা জোনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ ও জনস্বার্থ বিঘ্নিত করে কেউ অনিয়ম চালিয়ে গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একই সঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাজারের বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকান পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘর, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণ এবং নোংরা বাসনপত্র ব্যবহারের মতো গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে। এসব অনিয়মের দায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের তাৎক্ষণিকভাবে মৌখিক সতর্কবার্তা প্রদান করা হয় এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

অভিযানকালে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এবং ইউনিয়ন পরিষদ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মোট ১৬টি দোকানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর মধ্যে নাসির উদ্দীন সওদাগরের দোকানকে ৭ হাজার ৫০০ টাকা, ইউনিয়ন পরিষদ আইনের আওতায় ১০টি দোকানকে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ২৫ হাজার টাকা এবং ভোক্তা অধিকার আইনের আওতায় ৫টি দোকানকে ১ হাজার টাকা করে মোট ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযানে সর্বমোট ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা সেনাবাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের এই সময়োপযোগী যৌথ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে আলীকদম বাজারে চলমান বিশৃঙ্খলা, ফুটপাত দখল ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা নিরসনে এমন কঠোর মনিটরিং অত্যন্ত জরুরি ছিল।
তারা আশা প্রকাশ করেন, জনস্বার্থ রক্ষা, বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানো এবং নিরাপদ কেনাকাটার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
প্রসঙ্গত, পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকায় শুধু নিরাপত্তা নয়, জনজীবনের শৃঙ্খলা, ভোক্তা অধিকার ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও সেনাবাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা স্থানীয় মানুষের মধ্যে আস্থা ও নিরাপত্তাবোধ আরও দৃঢ় করছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।