নিরাপত্তা থেকে সামাজিক উন্নয়ন-নারী ক্রীড়ার পৃষ্ঠপোষকতায়ও অগ্রণী ভূমিকা রাখছে সেনাবাহিনী

নিরাপত্তা থেকে সামাজিক উন্নয়ন-নারী ক্রীড়ার পৃষ্ঠপোষকতায়ও অগ্রণী ভূমিকা রাখছে সেনাবাহিনী

নারীদের ক্রীড়া উন্নয়নের লক্ষ্যে লক্ষীছড়ি জোনের তত্ত্বাবধানে সম্প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা এবং তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনা বিকাশে বহুমাত্রিক ভূমিকা রেখে চলেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সীমান্ত সুরক্ষা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের পাশাপাশি শিক্ষা, ক্রীড়া ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারেও সেনাবাহিনীর ধারাবাহিক উদ্যোগ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এরই ধারাবাহিকতায় পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষীছড়িতে নারী ক্রীড়ার উন্নয়ন ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারের লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছে সম্প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ (মহিলা দল)। লক্ষীছড়ি জোনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) দুল্যাতলী আর্মি ক্যাম্প সংলগ্ন মাঠে এই টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।

নারীদের ক্রীড়া উন্নয়নের লক্ষ্যে লক্ষীছড়ি জোনের তত্ত্বাবধানে সম্প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লক্ষীছড়ি সেনা জোনের অফিসারবৃন্দ, লক্ষীছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, আয়োজক কমিটির সদস্য, অংশগ্রহণকারী নারী ফুটবল দলগুলোর খেলোয়াড় ও কোচ এবং এলাকার বিপুলসংখ্যক ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক উপস্থিত ছিলেন।

বিকাল সাড়ে তিনটায় লক্ষীছড়ি জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তাজুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এবারের টুর্নামেন্টে লক্ষীছড়ি জোনের আওতাধীন চারটি নারী ফুটবল দল অংশগ্রহণ করছে—দুল্যাতলী বালিকা দল, লক্ষীছড়ি জুনিয়র টিম একাদশ, বাইন্যাছড়া উচ্চ বিদ্যালয় বালিকা একাদশ এবং মরাচেঙ্গী বালিকা দল।

নারীদের ক্রীড়া উন্নয়নের লক্ষ্যে লক্ষীছড়ি জোনের তত্ত্বাবধানে সম্প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন

উদ্বোধনী বক্তব্যে জোন অধিনায়ক বলেন, এই টুর্নামেন্টের উদ্দেশ্য কেবল খেলাধুলা আয়োজন নয়, বরং সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া মেয়েদের জন্য সুযোগ তৈরি করা। খেলাধুলা নারীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বগুণ, দলগত কাজের মানসিকতা এবং দায়িত্ববোধ গড়ে তোলে। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণদের হতাশা ও বেকারত্ব কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি করে।

তিনি আরও বলেন, লক্ষীছড়ির গর্ব নারী ফুটবলার মণিকা চাকমার মতো আরও অনেক প্রতিভা এই টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়েই উঠে আসবে বলে আশা করা যায়। ফুটবল একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ দলীয় খেলা, যা নারী খেলোয়াড়দের মধ্যে ঐক্য, সহযোগিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করে—যা সামাজিক সম্প্রীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নারীদের ক্রীড়া উন্নয়নের লক্ষ্যে লক্ষীছড়ি জোনের তত্ত্বাবধানে সম্প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পার্বত্য অঞ্চলে সেনাবাহিনীর এ ধরনের ক্রীড়া ও সামাজিক উদ্যোগ শুধু নারী ক্ষমতায়ন নয়, বরং পাহাড়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও স্থিতিশীলতা জোরদারেও কার্যকর ভূমিকা রাখছে। দুর্গম ও পিছিয়ে পড়া এলাকায় যেখানে সুযোগ সীমিত, সেখানে সেনাবাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায় ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের অংশগ্রহণ নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই বহুমাত্রিক ভূমিকা—নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা, শিক্ষা ও ক্রীড়ার সমন্বয়—রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যকার আস্থার বন্ধন আরও সুদৃঢ় করছে। নারী ক্রীড়ার মতো সংবেদনশীল ও সম্ভাবনাময় খাতে সেনাবাহিনীর সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশের সামগ্রিক সামাজিক অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *