ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে কাতারে ফের আটক সাবেক নৌ ভারতীয় সেনা
![]()
নিউজ ডেস্ক
কাতারে আবারও গ্রেফতার হয়েছেন ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা পূর্ণেন্দু তিওয়ারি। একসময় মৃত্যুদণ্ডের সাজা থেকে রেহাই পাওয়া এই ভারতীয় নাগরিককে সম্প্রতি কাতারের একটি আদালতের রায়ের পর আটক করা হয়। শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, কাতারে দীর্ঘদিন ধরে চলমান একটি মামলার অংশ হিসেবে গত মাসে পূর্ণেন্দু তিওয়ারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই মামলায় আরও কয়েকজন অভিযুক্ত থাকলেও তারা ভারতীয় নাগরিক নন। আদালতের নির্দেশের ভিত্তিতেই তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, কাতারে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস নিয়মিতভাবে পূর্ণেন্দু তিওয়ারি ও তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। যেহেতু বিষয়টি এখনো বিচারাধীন, তাই এ নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলেও জানানো হয়েছে।
এই মামলার সূত্রপাত ২০২২ সালে। ওই বছরের আগস্ট মাসে কাতারের গোয়েন্দা সংস্থা আটজন সাবেক ভারতীয় নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে পূর্ণেন্দু তিওয়ারিও ছিলেন। গ্রেফতার হওয়া কর্মকর্তারা তখন কাতারের একটি বেসরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থা—দাহরা গ্লোবাল টেকনোলজিসে কাজ করছিলেন। তাদের দায়িত্ব ছিল কাতারের নৌবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে কাতারের একটি আদালত আট ভারতীয় নাগরিককে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে, যা ভারতজুড়ে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
এরপর ভারত সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই আটজনকেই মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তির পর সাতজন প্রাক্তন নৌ কর্মকর্তা ভারতে ফিরে এলেও পূর্ণেন্দু তিওয়ারিকে কাতারেই থাকতে বলা হয়। তার বিরুদ্ধে থাকা কিছু অভিযোগের কারণে তার আইনি প্রক্রিয়া তখনও চলমান ছিল।
পূর্ণেন্দু তিওয়ারি ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রের বাসিন্দা। তার বোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং নৌবাহিনী প্রধানের কাছে মানবিক বিবেচনায় ভাইয়ের দ্রুত মুক্তি ও দেশে ফেরানোর আবেদন জানিয়ে আসছেন।
এই নতুন গ্রেফতারের ঘটনায় আবারও ভারতের কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টির ভবিষ্যৎ এখন কাতারের আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।