ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) ঘিরে বিভ্রান্তি: দল বিলুপ্তির ঘোষণা ভুয়া দাবি, নেতৃত্বে রদবদল
![]()
নিউজ ডেস্ক
পার্বত্য চট্টগ্রামভিত্তিক আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-কে কেন্দ্র করে দল বিলুপ্তির ঘোষণা ও নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বিবৃতিকে ঘিরে সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর সাধারণ সম্পাদক অমল কান্তি চাকমার নাম ব্যবহার করে ফেসবুকে একটি বিবৃতি প্রচার করা হয়। ওই বিবৃতিতে দাবি করা হয়, সংগঠনটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে এবং দলের সভাপতি শ্যামল কান্তি চাকমা সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতিতে যোগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়। তবে বিবৃতিটিতে অমল কান্তি চাকমার কোনো স্বাক্ষর বা আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের প্রমাণ ছিল না।
এ বিষয়ে আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের মধুপুর বাজারে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সাধারণ সম্পাদক অমল কান্তি চাকমা ওই বিবৃতিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও গঠনতন্ত্রবহির্ভূত বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ওই বিবৃতির সঙ্গে তার বা কেন্দ্রীয় কমিটির কোনো সম্পর্ক নেই এবং কেন্দ্রীয় কমিটির অধিকাংশ সদস্যের সম্মতি ছাড়া দল বিলুপ্তির মতো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তার দাবি অনুযায়ী, ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর সাংগঠনিক কার্যক্রম আগের মতোই চলমান রয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে অমল কান্তি চাকমা অভিযোগ করেন, দলের সভাপতি শ্যামল কান্তি চাকমা (তরু) এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিটন চাকমা দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণসহ বিভিন্ন গঠনতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। এসব অভিযোগের মুখে তারা ২০ থেকে ২৫ জন অনুসারী নিয়ে খাগড়াছড়ি ছেড়ে চলে গেছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও জানান, বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শ্যামল কান্তি চাকমা ও তার অনুসারীরা সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির সঙ্গে অবস্থান নিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)’র সহ-সভাপতি সমীরণ চাকমা (চারমিং) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এ সময় সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক অমর জ্যোতি চাকমা, কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক দীপন চাকমা এবং কেন্দ্রীয় সদস্য সবিনয় চাকমা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শ্যামল কান্তি চাকমা তরুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে অংশীজন হবার লক্ষে প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ থেকে বের হয়ে তপন জ্যোতি চাকমার (বর্মা) নেতৃত্বে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) গঠিত হয়। ২০১৮ সালে তপন জ্যোতি চাকমাসহ পাঁচজন প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হন এবং আরও আটজন আহত হন। এরপর থেকে শ্যামল কান্তি চাকমা দলটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক এই বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি পার্বত্য অঞ্চলের আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।