মিয়ানমারে বিতর্কিত নির্বাচনে দ্বিতীয় দফার ভোটেও এগিয়ে সেনা–সমর্থিত দল

মিয়ানমারে বিতর্কিত নির্বাচনে দ্বিতীয় দফার ভোটেও এগিয়ে সেনা–সমর্থিত দল

মিয়ানমারে বিতর্কিত নির্বাচনে দ্বিতীয় দফার ভোটেও এগিয়ে সেনা–সমর্থিত দল
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ব্যাপক সংঘাত ও উত্তেজনার মধ্যেই মিয়ানমারে সাধারণ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। এই ধাপেও দেশটির সেনাবাহিনী-সমর্থিত প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) এগিয়ে গেছে। দেশটির নির্বাচন কমিশন–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রথম পর্যায়ের ওই ভোটে নিম্নকক্ষের ১০২টি আসনের মধ্যে দলটি ৯০টিতে জয় পেয়েছে।

গতকাল শুক্রবার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এমআরটিভির প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, গত রোববার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের ভোটে ১০০টি আসনের মধ্যে ৮৬টিতেই জয়ী হয়েছে তারা। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক ফলাফল পাওয়া যায়নি।

মিয়ানমারের ইউনিয়ন নির্বাচন কমিশনের (ইউইসি) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দুই ধাপের ফলাফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ইউএসডিপি। ৩৩০ সদস্যের নিম্নকক্ষে দুই ধাপের ফলাফল মিলিয়ে দলটি ১৮২টি আসনে জয়ের পথে রয়েছে, যা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় আসনের চেয়েও বেশি।

আগামী ২৫ জানুয়ারি নির্বাচনের তৃতীয় তথা চূড়ান্ত ধাপের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর এই প্রথম মিয়ানমারে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে বিরোধী দল ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বলে আখ্যায়িত করেছে। তাদের দাবি, সামরিক শাসনকে বৈধতা দিতেই এই একপেশে নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে।

গৃহযুদ্ধ ও সশস্ত্র সংঘাতের কারণে মিয়ানমারের জান্তা সরকার নির্বাচনকে তিন ধাপে ভাগ করেছে। প্রথম দুই দফায় ২০২টি আসনে ভোট হয়েছে। তবে সংঘাতপূর্ণ ৬৫টি আসন ভোট গ্রহণ হচ্ছে না। সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল জাও মিন তুন জানিয়েছেন, আগামী মার্চে সংসদ অধিবেশন শুরু হবে এবং এপ্রিলে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে।

এদিকে ভোট চলাকালে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো ভোটকেন্দ্র ও সরকারি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে জান্তা সরকার।

নির্বাচনের মধ্যেই আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানি চলছে। অন্যদিকে নির্বাচনের সমালোচনাকারীদের দমনে নতুন ‘নির্বাচন সুরক্ষা আইন’ প্রয়োগ করছে জান্তা। ইতিমধ্যে অনলাইনে সমালোচনা বা লিফলেট বিতরণের অভিযোগে ৩৩০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে ৫৭টি দল অংশ নিলেও মাত্র ছয়টি দল দেশজুড়ে প্রার্থী দিয়েছে। এর মধ্যে পিপলস পাইওনিয়ার পার্টি (পিপিপি) বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ছাড়া বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করার অভিযোগে দলটির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, অং সান সু চির দল এনএলডিকে নির্বাচনের বাইরে রেখে এই ভোট আয়োজন মিয়ানমারের রাজনৈতিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *