আলীকদমের দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর মানবিক উদ্যোগ, ১০০ পরিবারে শীতবস্ত্র বিতরণ

আলীকদমের দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর মানবিক উদ্যোগ, ১০০ পরিবারে শীতবস্ত্র বিতরণ

আলীকদমের দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর মানবিক উদ্যোগ, ১০০ পরিবারে শীতবস্ত্র বিতরণ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতের ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বান্দরবানের আলীকদম সেনা জোনের উদ্যোগে সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নের সিন্ধুমুখ পাড়া, ইন্দুমুখ পাড়া ও বড় আগলা পাড়া—এই তিনটি দুর্গম সীমান্তবর্তী পাহাড়ি পাড়ায় মোট ১০০টি পরিবারের মাঝে শীতের কম্বল বিতরণ করা হয়।

মানবিক এই কার্যক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম জোন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ আশিকুর রহমান আশিক। এ সময় সেনা জোনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গও উপস্থিত ছিলেন।

আলীকদমের দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর মানবিক উদ্যোগ, ১০০ পরিবারে শীতবস্ত্র বিতরণ

শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জোন অধিনায়ক বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো শুধু একটি মানবিক দায়িত্ব নয়, বরং দেশের স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও আলীকদম সেনা জোনের পক্ষ থেকে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, পাহাড়ি এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অপরিহার্য। যে কোনো পাহাড়ি সন্ত্রাসী বা সশস্ত্র গ্রুপের সন্দেহজনক তৎপরতা সম্পর্কে তথ্য দিয়ে সেনাবাহিনীকে সহায়তা করার জন্য তিনি স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠানো নিশ্চিত করতে হবে, কারণ শিক্ষাই পারে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সমাজে মর্যাদার সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত করতে।

আলীকদমের দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর মানবিক উদ্যোগ, ১০০ পরিবারে শীতবস্ত্র বিতরণ

বক্তব্যে জোন অধিনায়ক আলীকদমে অবস্থিত মূরং কমপ্লেক্সের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, বান্দরবান রিজিয়ন ও আলীকদম সেনা জোনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই কমপ্লেক্সে সুবিধাবঞ্চিত মূরং সম্প্রদায়ের শিশুদের জন্য বিনামূল্যে আবাসিক থাকা-খাওয়া ও শিক্ষার সুব্যবস্থা রয়েছে। অভিভাবকদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, সেখানে পাঠানো শিশুদের সার্বিক দেখভালের দায়িত্ব সেনা জোন গ্রহণ করবে।

এছাড়াও তিনি জানান, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে আলীকদম সেনা জোনের উদ্যোগে মূরং সম্প্রদায়ের যুবকদের জন্য বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পাহাড়ি যুবসমাজ স্বাবলম্বী হয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের মূলধারায় যুক্ত হতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বক্তব্যের শেষাংশে তিনি যুবসমাজকে মাদক ও সকল প্রকার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, দুর্গম ও সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, যা স্থানীয় জনগণের আস্থা ও সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।