রাঙামাটি–খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ২৫ প্রকল্প অনুমোদন একনেকে
![]()
নিউজ ডেস্ক
পার্বত্য চট্টগ্রামের যোগাযোগ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ রাঙামাটি–মহালছড়ি–খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রকল্পসহ মোট ২৫টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় হবে ১০ হাজার ৮৮১ কোটি ৪০ লাখ টাকা, বৈদেশিক ঋণ থেকে ৩২ হাজার ৯৮ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে ২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে— রাঙামাটি–মহালছড়ি–খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, চট্টগ্রাম হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে উন্নয়ন, লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, মুন্সিগঞ্জের সড়ক বিভাগের চারটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প এবং হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন সার্ভিস ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড সিস্টেম স্ট্রেংদেনিং প্রকল্প।
এছাড়া আড়িয়ার খাঁ বিল এলাকার জীবনমান উন্নয়ন, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় পর্যটন কেন্দ্রের সুবিধা বৃদ্ধি, কুমিল্লা জেলার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, শরিয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় পদ্মা নদীর ভাঙন রোধ, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙন প্রতিরোধ, চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর তীর সংরক্ষণ এবং মহানন্দা নদী ড্রেজিং ও রাবার ড্যাম নির্মাণ প্রকল্পও একনেকে অনুমোদন পেয়েছে।
অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার নদীগুলোর টেকসই ব্যবস্থাপনা, স্মলহোল্ডার এগ্রিকালচারাল কম্পিটিটিভনেস প্রকল্প, আশুগঞ্জ–পলাশ সবুজ প্রকল্প, নীলফামারীতে বাংলাদেশ–চায়না যৌথ উদ্যোগে এক হাজার শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ, বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশুদের বিকল্প শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, সিলেটে টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন এবং দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত যুবকদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রকল্প।
এ ছাড়া দোহাজারী হয়ে রামু থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় নির্মাণ, দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ফাঁড়ি, ক্যাম্প ও নৌপুলিশ কেন্দ্রের উন্নয়ন এবং স্যানিটেশনে নারী উদ্যোক্তা প্রকল্পও অনুমোদনের তালিকায় রয়েছে।
ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, যেসব প্রকল্প আগামী জুন বা ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সেগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যাবে। এখন থেকে চলমান প্রকল্পগুলো প্রতি তিন মাস পরপর মূল্যায়ন করা হবে এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও জানান, নীলফামারীতে চীনের অনুদানে নির্মিতব্য এক হাজার শয্যার হাসপাতালটি একটি বড় আকারের প্রকল্প। দীর্ঘদিন অবহেলিত জেলা হওয়ায় নীলফামারিকে এ হাসপাতালের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। হাসপাতালটি চালু হলে দেশের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশ থেকেও রোগীরা সেখানে চিকিৎসা নিতে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি প্রসঙ্গে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ডলারের হিসাবে ব্যয় খুব বেশি বাড়েনি, তবে টাকার অংকে হিসাব করলে তা অনেক বেশি মনে হচ্ছে। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রস্তাবিত ক্লিন এয়ার প্রকল্প অনুমোদন না দেওয়ার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণ মাপার জন্য এক হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে বৈদেশিক ঋণ নেওয়া যুক্তিসংগত নয়। দূষণ মাপার চেয়ে দূষণ কমানোর দিকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তিনি জানান, ভবিষ্যতে সামাজিক খাতে বৈদেশিক ঋণ কম নেওয়া হবে এবং বিনিয়োগমুখী প্রকল্পেই ঋণ নেওয়ার নীতিতে সরকার অগ্রসর হবে।
প্রসঙ্গত, একনেকে অনুমোদিত এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ ও কর্মসংস্থান খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সাধিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।