খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ কর্মকর্তার শ্যালকের পোষ্ট, ভোটের আগে ফেসবুকে ‘টাকার বার্তা’
![]()
নিউজ ডেস্ক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের এক তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর শ্যালকের বিরুদ্ধে ভোটে অর্থ বিলির ইঙ্গিতপূর্ণ প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে জেলায় নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে এ ঘটনা।
অভিযোগ অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী ও হিসাব রক্ষক ম্রাসাথোয়াই মারমার শ্যালক রোমেল মারমা নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ভোটের সময় অর্থ বিলির ইঙ্গিত দিয়ে একটি পোস্ট দেন।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, পোষ্টদাতার ভগ্নিপতির মারমা ঐক্য পরিষদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে এই কার্যক্রম একটি নির্দিষ্ট প্রতীকের পক্ষে ভোট প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভোটার জানিয়েছেন, মারমা ঐক্য পরিষদ মূলত বিএনপি সমর্থিত সংগঠন হওয়ায় রোমেল মারমার ফেসবুক পোষ্ট ঘিরে বিএনপির পক্ষ হতে টাকা বিতরণ করা হতে পারে বলে একটি ঘোলাটে রহস্য তৈরী হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো আরও জানায়, বিগত দেড় বছরে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদে যে উন্নয়ন ও অন্যান্য খাতে অর্থ বরাদ্দ এসেছে, তার বড় একটি অংশের বাস্তব ব্যবস্থাপনা ও প্রভাব ছিল ম্রাসাথোয়াই মারমা ও রোমেল মারমার নিয়ন্ত্রণে। ফলে নির্বাচন ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে অর্থের অপব্যবহার ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগকে অনেকেই গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।
এ বিষয়ে রোমেল মারমার বক্তব্য জানতে তার ফেসবুক পোস্টে দেওয়া মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনে কোনো সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে, স্থানীয় কয়েকজন সচেতন নাগরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী বা তাদের নিকটাত্মীয়দের এ ধরনের আচরণ নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “পার্বত্য জেলা পরিষদের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম এভাবে ভোটে টাকা বিলির আলোচনায় আসা খুবই উদ্বেগজনক। এতে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হয়।”
আরেকজন স্থানীয় সমাজকর্মীর মন্তব্য, “পার্বত্য অঞ্চলে এমনিতেই নির্বাচন নিয়ে সংবেদনশীলতা থাকে। সেখানে সরকারি অর্থ ও প্রভাব ব্যবহার করে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা হলে তা শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, বরং পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্যও হুমকি।”
অভিযোগগুলো সত্য হলে বিষয়টি নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তারা অবিলম্বে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, নির্বাচনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অর্থ বিলি বা ভোট প্রভাবিত করার ইঙ্গিতপূর্ণ প্রচার নির্বাচন আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।