ভোটের মাঠে সেনাসহ বিভিন্ন বাহিনীর ৯ লাখ ১৯ হাজার সদস্য
![]()
নিউজ ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে সেনাসহ বিভিন্ন বাহিনীর ৯ লাখ ১৯ হাজার ৩৫০ জন সদস্য।
৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিভিন্ন বাহিনী মাঠে কাজ করলেও বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে সারা দেশে প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ছাড়া মাঠে রয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার সেনাবাহিনী, আনসার ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্টগার্ড ৩ হাজার ৫৮৫ জন, র্যাবের ৯ হাজার ৩৪৯ জন, এবং বিএনসিসির ১ হাজার ৯২২ জন সদস্য।
নৌবাহিনীর উপকূলীয় পাঁচ জেলায় ১৭ আসনে ৫ হাজার এবং বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৫০০ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। ভোটের মাঠ পর্যবেক্ষণে সব বাহিনীর ড্রোন ব্যবহৃত হবে।
নির্বাচনি অপরাধের বিচার কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়োজিত রয়েছেন ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট, ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনি তদন্ত কমিটিতে ৩০০ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট।
নির্বাচনে প্রায় ৪০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং প্রায় ৫০ হাজার দেশীয় পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। একইসঙ্গে বিদেশি সাংবাদিকরাও নির্বাচন কভার করবেন।
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, নির্বাচনে প্রাথমিকভাবে আট হাজার ৭৭০টি কেন্দ্রকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৬ হাজার কেন্দ্র মাঝারি এবং ১৬ হাজার কেন্দ্রকে সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ২৪ হাজার কেন্দ্র বডি-ওর্ন ক্যামেরার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, জাতিকে ভালো নির্বাচন দেওয়ার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত ১৮ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ বাহিনী, বিজিবি, সেনাবাহিনী, আনসার সবাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এবার কোনো ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হবে না।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।
নির্বাচনে সব মিলিয়ে ২ হাজারের মতো প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে আড়াই শতাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে, বাকিরা ৫১টি দলের প্রার্থী।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। দলটির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৯১ জন প্রার্থী। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৫৮ জন প্রার্থী হাতপাখা প্রতীক নিয়ে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২২৯ জন প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন ৩২ জন প্রার্থী।
সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একইসঙ্গে হওয়ায় এবার ভোটের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে একটানা চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে একযোগে এই ভোট অনুষ্ঠিত হবে। শেরপুর-৩ আসনে সম্প্রতি জামায়াতের প্রার্থী মারা যাওয়ায় সেখানে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ওই আসনে পরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।