দক্ষতার স্বীকৃতি পাচ্ছেন রোহিঙ্গা শিবিরের স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষকরা
![]()
নিউজ ডেস্ক
বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রথমবারের মতো শরণার্থী শিবিরগুলোর ১ হাজার ১০০ এর বেশি স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ সনদ পেতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ বাংলাদেশ।
এর মধ্য দিয়ে তাদের দক্ষতার স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে বলে বুধবার পাঠানো সংস্থার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্বেচ্ছাসেবকদের সরাসরি পাঠদানে যুক্ত করার মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে রোহিঙ্গা শিশুদের শেখার প্রক্রিয়া জোরদার করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকার এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার-আরআরআরসি সহযোগিতায় ইউনিসেফ ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন এসব স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষককে স্বীকৃতি দিয়েছে, তাদের সরাসরি পাঠদানে যুক্ত করার মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মিজানুর রহমান বলেন, “এটা শুধু একটি সনদ নয়, এটা ক্ষমতায়নের একটি প্রতীক।”
ইউনিসেফ বলছে, গত দুই বছরে কক্সবাজার ও ভাসানচরের রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক ও ‘মাস্টার ট্রেইনাররা’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন করেছেন। রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর জন্য এ ধরনের প্রথম সুপরিকল্পিত কর্মসূচির আওতায়, শিক্ষাদানকারী স্বেচ্ছাসেবকেরা আরও কার্যকরভাবে মিয়ানমারের পাঠক্রম পড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন করেছেন।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি স্ট্যানলি গাভুয়া বলেন, “প্রতিটি রোহিঙ্গা শিশুর জন্য শুধু শিক্ষার সুযোগ নয়, বরং মানসম্মত শিক্ষালাভের সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এই সনদ প্রদান।”
ইউনিসেফ বলছে, স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষকদের এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ছিল তিন মাসব্যাপী। সেখানে মোট ১৭৬ ঘণ্টা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, সমাজ বিজ্ঞান ও বার্মিজ ভাষাসহ মিয়ানমারের পাঠক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১১৮টি মডিউল নিয়ে এখানে আলোচনা হয়। এখানে, সরাসরি পাঠদান, সহকর্মীদের সাথে মতবিনিময় ও আলোচনা (পিয়ার এনগেজমেন্ট) এবং শ্রেণিকক্ষে হাতে-কলমে অনুশীলনের সমন্বয় ছিল।
এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের প্রতিষ্ঠাতা কামাল আহমদ বলেন, “নিপীড়ন-নির্যাতন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে শিক্ষাই হল সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। তবে যে কোনো শিক্ষা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট নয়। সেক্ষেত্রে, শিক্ষা অবশ্যই কার্যকর হতে হবে; হতে হবে সহানুভূতিশীল মানসিকতা তৈরির মাধ্যম।
“এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আমাদের আশান্বিত করছে যে, শরণার্থী শিবিরগুলোতে শিক্ষা এমনভাবে উন্নত হবে যে সেটা আবার আশার সঞ্চার করবে।”
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।