নির্বাচিত সরকার গঠনের পর ঢাকার সঙ্গে উন্নত সম্পর্কের আশায় পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়ীরা
![]()
নিউজ ডেস্ক
বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর একটি স্থায়ী ও নির্বাচিত সরকার গঠনের অপেক্ষায় দিন গুনছেন পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সংলগ্ন ব্যবসায়ীরা। গত ১৮ মাস ধরে চলা প্রশাসনিক স্থবিরতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন কাটিয়ে পুনরায় বাণিজ্য গতিশীল হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যদিও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দু’দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১২.৯ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলার, তবুও গত দেড় বছরে পরিকাঠামোগত সমস্যা এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবে বাণিজ্যের গতি অনেকটাই শ্লথ হয়ে পড়েছিল।
নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে গত বুধবার থেকে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার পেট্রাপোল ও ঘোজাডাঙ্গা, মালদার মহদীপুর এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, নির্বাচনের কারণে এই দু-তিন দিনের বন্ধে যেটুকু ক্ষতি হচ্ছে, তা তারা মেনে নিতে প্রস্তুত—যদি এর বিনিময়ে বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল সরকার গঠিত হয়।
পেট্রাপোলের ল্যান্ড পোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার ম্যানেজার কমলেশ সাইনি জানিয়েছেন, “আগামী শনিবার থেকে বাণিজ্য কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক হবে।”
পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং এজেন্ট স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বর্তমান পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, “গত ১৮ মাস ধরে মনে হচ্ছে আমরা একটা ডুবন্ত নৌকায় চড়ে টিকে থাকার চেষ্টা করছি। আগে জিরো পয়েন্টে আলোচনার মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান হতো, কিন্তু এখন ওপারে কথা বলার মতো কোনো প্রশাসনিক প্রতিনিধি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।”
একই সুর শোনা গেছে ঘোজাডাঙ্গার রপ্তানিকারক জয়দেব সরকারের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আমরা তেমন কোনো সাড়া পাইনি। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিলে জবাবদিহিতা ফিরবে এবং আমরা আমাদের সমস্যার কথাগুলো সরাসরি জানাতে পারব।”
ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ব্যবসায়ীরা আগেভাগেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। হিলি এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সম্পাদক ধীরাজ অধিকারী জানান, ১০ ফেব্রুয়ারি থেকেই হিলি দিয়ে পচনশীল পণ্য পাঠানো বন্ধ রাখা হয়েছে। কিছু ট্রাক ওপারে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় আটকে থাকলেও, সরকার গঠনের পর সেগুলো দ্রুত ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যের সিংহভাগই সম্পন্ন হয় পশ্চিমবঙ্গের এই স্থলবন্দরগুলোর মাধ্যমে। বাংলার ব্যবসায়ী মহল মনে করছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলে প্রশাসনিক স্তরে আবারও নিয়মিত সংলাপ শুরু হবে, যা দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।