বিএনপিকে ভোট দেওয়ার অভিযোগে উপজাতি ভোটারদের মারধর, হুমকি ও জরিমানার অভিযোগ
![]()
নিউজ ডেস্ক
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে উপজাতি ভোটারদের ওপর শারীরিক নির্যাতন হুমকি ও অর্থদণ্ড আরোপের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ওয়াদুদ ভূইয়াকে ভোট দেওয়ার অভিযোগে কয়েকটি আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠী সাধারণ ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, জেলার পানছড়ি, দীঘিনালা, বেলছড়ি, গোমতি, তবলছড়ি ও রামগড়সহ বিভিন্ন এলাকায় কিছু উপজাতি ভোটারের কাছে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার হুমকি দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ নিরাপত্তাহীনতার কারণে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ত্রিপুরা ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক খনি রঞ্জন ত্রিপুরা এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি আইন-শঙ্খলা বাহিনীর কাছে দ্রুত এসব অভিযোগের যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, বাংলাদেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে অবাধে ভোটাধিকার প্রয়োগ ও রাজনৈতিক মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছে। পাহাড়ের বাসিন্দারা বাঙালি বা উপজাতি—যেই হোন না কেন, সবার সমান অধিকার রয়েছে। কোনো প্রতীকে ভোট দেওয়ার কারণে হুমকি, অর্থদণ্ড বা সামাজিক নিপীড়ন গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।
খাগড়াছড়ির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের সংঘাত ও অবিশ্বাসে ক্লান্ত পাহাড়ের সাধারণ মানুষ মূলত শান্তি, সম্প্রীতি, উন্নয়ন ও নিরাপদ জীবন চায়। এমন প্রেক্ষাপটে নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে সহিংসতা বা অস্ত্রের প্রভাব বাড়লে তা সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ফল যাই হোক না কেন, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত কর্মী-সমর্থকদের সংযত রাখা এবং উসকানিমূলক বক্তব্য পরিহার করা। পাহাড়ি এলাকায় সামান্য উত্তেজনাও বড় ধরনের অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে—এ বাস্তবতা সকল পক্ষেরই জানা।
এদিকে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা—এমন মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, কোনো পরিবার বা নারী সদস্য যদি নিরাপত্তাহীনতার কারণে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন, তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নারীর নিরাপত্তা ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
পার্বত্য চট্টগ্রামের সামগ্রিক শান্তি প্রক্রিয়া ও জাতীয় সংহতির প্রশ্নে খাগড়াছড়ির স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও নিরপেক্ষ প্রয়োগের মাধ্যমেই কেবল স্থায়ী সমাধান সম্ভব—এমনটাই মত বিশ্লেষকদের।
ভোট দেওয়া কোনোভাবেই অপরাধ হতে পারে না—এ কথা পুনর্ব্যক্ত করে স্থানীয়রা বলছেন, গণতন্ত্রের শক্তি মতের ভিন্নতায় ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে। খাগড়াছড়িতে এখন প্রয়োজন সংযম, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং সকল সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আস্থার পরিবেশ গড়ে তোলা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।