মণিপুর সহিংসতা: যৌন সহিংসতার মামলায় অগ্রগতি জানতে সিবিআইকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ
![]()
নিউজ ডেস্ক
২০২৩ সালের মে মাসে মণিপুরে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সময় সংঘটিত ধর্ষণ ও গণধর্ষণসহ গুরুতর অপরাধের মামলাগুলোর অগ্রগতি নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোকে (সিবিআই) স্ট্যাটাস রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সিবিআইকে জানতে চেয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে পর্যাপ্ত প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে কি না। একই সঙ্গে আইন অনুযায়ী ভুক্তভোগী বা তাদের পরিবারকে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) সরবরাহের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আদালত আরও প্রস্তাব দিয়েছে, মণিপুর হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এম. সুন্দর এবং গৌহাটি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি অশুতোষ কুমার যেন এসব ফৌজদারি মামলার বিচার কার্যক্রম ঘনিষ্ঠভাবে তদারকি করেন। প্রয়োজনে ভুক্তভোগীদের “মানসম্মত আইনি সহায়তা” দেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
শুনানিতে উদ্বেগ
সহিংসতার সময় যৌন নির্যাতনের শিকার তরুণীদের পক্ষে একাধিক আবেদনে হাজির হয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বৃন্দা গ্রোভার মামলাগুলোর ধীরগতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তুলে ধরেন।
তিনি জানান, সহিংসতার প্রাথমিক পর্যায়ে গণধর্ষণের শিকার এক তরুণী চলতি বছরের জানুয়ারিতে অসুস্থতায় মারা যান। তার অসুস্থতার পেছনে মানসিক আঘাতজনিত কারণ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই মামলাটি সিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা ১১টি সংবেদনশীল মামলার একটি ছিল এবং তা সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে চলার কথা ছিল।
বৃন্দা গ্রোভার অভিযোগ করেন, ভুক্তভোগীকে তার মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে কখনো অবহিত করা হয়নি। তিনি বলেন, “অভিযুক্তরা নিয়মিত আদালতে হাজির হচ্ছেন না, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে সিবিআইয়ের প্রতিনিধিরাও অনুপস্থিত ছিলেন।” তিনি আরও বলেন, আইন অনুযায়ী ভুক্তভোগীর অভিযোগপত্রের অনুলিপি পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
কেন্দ্রের প্রতিক্রিয়া
কেন্দ্র ও মণিপুর সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, ভুক্তভোগীদের প্রকৃত অভিযোগের বিরোধিতা করার সুযোগ নেই এবং এসব বিষয় যথাযথ সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ওই তরুণীর মৃত্যু “অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক” বলে মন্তব্য করেন এবং এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
বিচার প্রক্রিয়া তদারকির প্রস্তাব
আদালত জানায়, মণিপুর সহিংসতা-সংক্রান্ত কিছু মামলা রাজ্যের ভেতরেই বিচারাধীন থাকবে, তবে ২৭টি মামলা আসামে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ অবস্থায় বিচার কার্যক্রমের দৈনন্দিন অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য দুই হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিদের মধ্যে সমন্বয়ের প্রস্তাব দেন প্রধান বিচারপতি।
তিনি বলেন, “সবাই যাতে ন্যায়বিচার পান এবং আইনের শাসন শক্তিশালী হয়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।” সংবেদনশীল মামলাগুলোর কার্যকর তদারকির জন্য আসামে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে বলে মত দেন তিনি।
আদালত আরও জানায়, যদি পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে, তবে সুপ্রিম কোর্ট পুনরায় হস্তক্ষেপ করতে পারে।
মামলাটির পরবর্তী শুনানি আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।