খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগ, তদন্তের আবেদন

খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগ, তদন্তের আবেদন

খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগ, তদন্তের আবেদন
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের হিসাবরক্ষক (অ্যাকাউন্টেন্ট) পদে কর্মরত তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ম্রাসাথোয়াই মারমার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। গুইমারা উপজেলার ৫১ নম্বর ধুরুং এলাকার বাসিন্দা আনু মারমা গত বছরের ১০ জুলাই এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, দরিদ্র পরিবারের সন্তান হিসেবে তৃতীয় শ্রেণির চাকরিতে যোগদান করা সত্ত্বেও ম্রাসাথোয়াই মারমা বর্তমানে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগকারীর দাবি, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের পরিমাণ এত বেশি যে তিনি ইতোমধ্যে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারি কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও ম্রাসাথোয়াই মারমা খাগড়াছড়ি জেলায় নিজ মালিকানাধীন দুটি নোহা গাড়িতে চলাফেরা করেন এবং ব্যাপক প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তার করেছেন। তিনি তার অর্থনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, ম্রাসাথোয়াই মারমা এক সময় ভূমিহীন থাকলেও বর্তমানে শত শত একর জমির মালিক। এর মধ্যে পানছড়ি উপজেলার ৪ নম্বর লতিবান ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৩৫০ একর জমির ওপর রাবার বাগান ও ফলজ বাগান রয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এছাড়া পানছড়ি কংচাইরী পাড়া এলাকার মায়াবিনী লেকে প্রায় ৭০ একর জমি, খাগড়াছড়ি জেলা সদরের নিউজিল্যান্ড রোডে ১০ শতক জমি, গুইমারা উপজেলার যৌথখামার এলাকায় প্রায় ৫ একর জমি এবং জেলা সদরের স্বনির্ভর বাজার এলাকায় একটি প্লট থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগ, তদন্তের আবেদন

অভিযোগকারী দাবি করেন, নিজের নামে সম্পদ অর্জন না করে ম্রাসাথোয়াই মারমা তার পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনের নামে এসব সম্পদ নিবন্ধন করেছেন। তার স্ত্রী চিংস্রাউ মারমা একজন সাধারণ গৃহবধূ হলেও তার নামে খাগড়াছড়ি বাজারের য়ংড বৌদ্ধ বিহারের সামনে ছয়তলা ‘হিল হেভেন’ নামের একটি হোটেল রয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এছাড়া গোলাবাড়ি এলাকায় যে ছয়তলা ভবনে ম্রাসাথোয়াই মারমা পরিবারসহ বসবাস করেন, সেই ভবনের মালিকানাও তার স্ত্রী চিংস্রাউ মারমার নামে নিবন্ধিত রয়েছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব সম্পত্তি খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ২৬২ নম্বর গোলাবাড়ি মৌজায় অবস্থিত। সংশ্লিষ্ট খতিয়ান নম্বর ৩৯ ও ৭৪ এবং দাগ নম্বর ২৭৭৮, ২৬০০ ও ২৬৪৬ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী আনু মারমা বলেন, একজন তৃতীয় শ্রেণির সরকারি কর্মচারীর পক্ষে এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া স্বাভাবিক নয়। তাই ম্রাসাথোয়াই মারমার অর্জিত সম্পদের উৎস তদন্ত করে তার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

একটি সূত্র বলছে, জেলার বিভিন্ন স্থানে মারমা সম্প্রদায়ের লোকজনকে জেলা পরিষদে চাকরি পাইয়ে দেবার প্রলোভন দেখিয়ে বহু যুবকের কাছ থেকে লাখ লাখ ঘুষ নিয়েছেন এই ম্রাসাথোয়াই মারমা। কিছুদিন আগে এসব বিষয় নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা পরিলক্ষিত হয়েছিলো।

সূত্রের দাবি, ম্রাসাথোয়াই মারমা ক্ষমতাসীন দলের সমর্থনে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য উঠে-পড়ে লেগেছেন। ইতিমধ্যে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হতে নিজ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার গুঞ্জন উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ম্রাসাথোয়াই মারমার বক্তব্য জানা যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া জানতে চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বর্তমান সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।