পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ নিয়ে অপপ্রচার: বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ

পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ নিয়ে অপপ্রচার: বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ

পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ নিয়ে অপপ্রচার: বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন তারেক রহমান রাজনৈতিক দর্শন চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলমগীর নূর। তিনি বলেছেন, একটি বিশেষ মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাম্প্রদায়িক ধোঁয়াশা সৃষ্টি করে পার্বত্য অঞ্চলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আলমগীর নূর বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দাবি করা হচ্ছে যে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে কেবল “পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” থেকে কাউকে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। তিনি এ দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, আইনবহির্ভূত এবং দেশের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মন্ত্রিসভা গঠন ও মন্ত্রী নিয়োগের পূর্ণ এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত। সংবিধানে কোনো নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জন্য কোনো অঞ্চল বা জাতিগোষ্ঠীর ভিত্তিতে ‘কোটা’ বা সংরক্ষণের বিধান নেই। ফলে দেশের যেকোনো যোগ্য সংসদ সদস্য যেকোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিধিমালাতেও এমন কোনো শর্ত নেই যা বর্তমান প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের নিয়োগকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। অতীতেও এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বিভিন্ন অঞ্চল ও পটভূমির ব্যক্তিরা সফলতার সঙ্গে পালন করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আলমগীর নূর বলেন, মন্ত্রণালয়ের অনার বোর্ড ও ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ভিন্ন ভিন্ন পটভূমি থেকে আসা ব্যক্তিরা দায়িত্ব পালন করেছেন। সুতরাং বর্তমানে যে দাবি তোলা হচ্ছে তা কেবল ঐতিহাসিকভাবে অসত্যই নয়, বরং জাতীয় ঐক্য ও অখণ্ডতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন হলো “জাতীয়তাবাদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন”। এই দর্শনে কোনো অঞ্চল বা গোষ্ঠীকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের মতো একজন যোগ্য ও আইনি বিশেষজ্ঞের নেতৃত্বে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে দেশের সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করাই তাদের রাজনৈতিক আদর্শ। কিন্তু একটি চিহ্নিত স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পাহাড়ে অস্থিরতা সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যে মনগড়া তথ্য ছড়াচ্ছে।

বিবৃতির শেষাংশে আলমগীর নূর সকল দেশপ্রেমিক নাগরিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারে কান না দিয়ে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি, সম্প্রীতি ও সুষম উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।