খাগড়াছড়ির পানছড়িতে দুপক্ষের গোলাগুলি: নিহত ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীর পরিচয় শনাক্ত

খাগড়াছড়ির পানছড়িতে দুপক্ষের গোলাগুলি: নিহত ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীর পরিচয় শনাক্ত

খাগড়াছড়ির পানছড়িতে দুপক্ষের গোলাগুলি: নিহত ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীর পরিচয় শনাক্ত

প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী আপন ত্রিপুরা ওরফে সংগ্রাম

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পানছড়িতে দুই আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। নিহত ব্যক্তি হলেন প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) সন্ত্রাসী আপন ত্রিপুরা ওরফে সংগ্রাম (২৮)।

আজ শনিবার (৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পানছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের বড়কোণা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আপন ত্রিপুরা পানছড়ির মরাটিলা পদ্মিনীগ্রামের মৃত কিরণ মুনি ত্রিপুরার ছেলে।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ইউপিডিএফের প্রচার বিভাগের মুখপাত্র নিরন চাকমা জানান, সাংগঠনিক কাজে বড়কোণা পাড়ায় গেলে আগে থেকে অবস্থান করে থাকা প্রতিপক্ষ সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)’র সশস্ত্র সদস্যরা খুব কাছ থেকে মাথায় গুলি করে আপন ত্রিপুরাকে হত্যা করে।

তবে সূত্র বলছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউপিডিএফ ও জেএসএস–এর সশস্ত্র সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে ইউপিডিএফের পানছড়ি সশস্ত্র গ্রুপ কমান্ডার শংকর চাকমা ও রুপায়ন চাকমার নেতৃত্বে প্রায় ৩০–৪০ জন এবং জেএসএসের সশস্ত্র কোম্পানি কমান্ডার সমাজপ্রিয় চাকমার নেতৃত্বে প্রায় ২৫–৩০ জন সদস্য অংশ নেয়।

ইউপিডিএফের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনার জন্য জেএসএসের সন্তু লারমা গ্রুপকে দায়ী করা হয়েছে। ইউপিডিএফের দাবি, সংগঠনের কর্মী আনন্দ ত্রিপুরা সাংগঠনিক কাজে সেখানে গেলে আগে থেকেই ওৎ পেতে থাকা সশস্ত্র সদস্যরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

এ ঘটনায় ইউপিডিএফের সংগঠক অংগ্য মারমা হত্যাকাণ্ডকে “কাপুরুষোচিত ও ন্যাক্কারজনক” আখ্যা দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পানছড়ি এলাকায় জেএসএস সন্তু গ্রুপ খুন, অপহরণসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি অবিলম্বে আপন ত্রিপুরার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এদিকে পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে গোলাগুলির শব্দ শোনার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, আজ শনিবার (৭ মার্চ) দুপুর আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিট থেকে ১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত পানছড়ি উপজেলার ৪ নং লতিবান ইউনিয়নের গঙ্গাপাড়া ও বরকোনা এলাকায় এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে আনুমানিক ১১০ থেকে ১২০ রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, খাগড়াছড়ির পানছছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইউপিডিএফ ও জেএসএসের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাঝে মধ্যেই উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।