থানার ভেতরে মা-মেয়েকে নির্যাতন: পেকুয়ার ওসিকে আদালতে তলব

থানার ভেতরে মা-মেয়েকে নির্যাতন: পেকুয়ার ওসিকে আদালতে তলব

থানার ভেতরে মা-মেয়েকে নির্যাতন: পেকুয়ার ওসিকে আদালতে তলব
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

কক্সবাজারের পেকুয়া থানার ভেতরে মা-মেয়েকে নির্যাতনের অভিযোগে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলমকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিউল আযম।

আদালতের আদেশে ওসিকে আগামী ১৬ মার্চের মধ্যে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

কক্সবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির এমএই শাহজাহান নূরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, “মা-মেয়েকে নির্যাতনের ঘটনায় আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আগামী ১৬ মার্চের মধ্যে ওসিকে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন।”

মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বিকেলে পেকুয়া থানায় ডেকে নিয়ে রেহেনা মোস্তফা (৪২) ও তার মেয়ে জুবাইদা বেগমকে (২১) পুলিশ মারধরের অভিযোগ ওঠে। ওই দিনই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ইউএনও মাহবুবুল আলম দুজনকে এক মাস করে সাজা দেন এবং পরে তাদের কক্সবাজার কারাগারে পাঠানো হয়।
কিন্তু ঘটনার এই সাজা আপিল করে বাতিল করেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিদুল আলম, এবং মা-মেয়েকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জুবাইদার জন্মের পর রেহেনা ও তার স্বামীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। ২০১৩ সালের ২৩ মে জুবাইদার বাবার মৃত্যু হলে তিনি সম্পত্তি ভাগ নিয়ে চাচা ও ফুফুদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে জুবাইদাকে অস্বীকার করা হয়। বিষয়টি নিয়ে জুবাইদা আদালতে মামলা করেন। মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় পেকুয়া থানা, যা এসআই পল্লব কুমার ঘোষ পরিচালনা করেন।

স্বজনদের অভিযোগ, এসআই পল্লব তদন্ত প্রতিবেদন দিতে রেহেনা ও জুবাইদার কাছে ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। তবুও আদালতে জুবাইদার বিপক্ষে প্রতিবেদন দেন তিনি। টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা সত্ত্বেও কোনো সাড়া না পেয়ে ১৩ জানুয়ারি রেহেনা ও জুবাইদা কক্সবাজার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

রেহেনার অভিযোগ, “টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে আমাদের থানায় ডেকে নিয়ে পুলিশ মারধর করেছে। ইউএনও আমাদের রক্তাক্ত অবস্থায় দেখেও কোনো পদক্ষেপ নেননি। এরপর আমাদের কালো গাড়িতে তুলে সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।”

ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়া পর আদালত আমল নেন। আদেশে বলা হয়েছে, পেকুয়া থানার ওসিকে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ, গ্রেপ্তার ও আইনগত ব্যবস্থা, জিডি বা মামলা, ডিউটি রোস্টার, সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি ১৬ মার্চের মধ্যে আদালতে সত্যায়িত কপিসহ উপস্থাপন করতে হবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *